গতকাল রোববার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরার আদেশে হিমুকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হিমু চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাজীরপাড়া এলাকার মো. হানিফ মিয়ার মেয়ে। হানিফ মিয়া পেশায় অটোরিকশাচালক।
হিমু আক্তারের পক্ষের আইনজীবী কৃষ্ণ প্রসাদ শর্মা জনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় নিখোঁজ ছিল হিমু। তার অবস্থান জানতে পেরে ১১ জানুয়ারি আদালতের কাছে মেয়ের জিম্মা চেয়ে আবেদন করেন বাবা হানিফ মিয়া। রোববার শুনানি শেষে হিমুকে বাবার জিম্মায় দেয় আদালত।
.png)
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন বলেন, সন্তানকে ফিরে পেতে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন বাবা হানিফ মিয়া। হিমুকে হানিফ মিয়া সম্পর্কে নানা ধরনের প্রশ্ন করে আদালত। পরে হানিফ মিয়া বাবা বলে প্রমাণিত হওয়ায় হিমুকে তার জিন্মায় দেওয়া হয়।
হিমুর বাবা হানিফ মিয়া বলেন, আমার ভাতিজি জামাই দেশের বাইরে থাকেন। সেখান থেকে ফেসবুকের একটি লাইভ ভিডিওতে হিমুকে দেখতে পান তিনি। পরে হিমুর ছবিটি আমাদের পাঠালে আমরা সেটি নিয়ে হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ এলাকার মহিলা ও শিশু-কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে যাই। সেখানে মেয়ের সঙ্গে কথাবার্তা বলি। কিন্তু মেয়েকে ফিরে পেতে হলে আদালতের আদেশ লাগবে বলে জানিয়েছিলেন সেখানকার কর্মকর্তারা। অবশেষে আদালতের আদেশে মেয়েকে ফিরে পেলাম।
তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ের একটু মানসিক সমস্যা ছিল। তাই ভেবেছিলাম আর হয়তো পাবো না। কিন্তু তাকে ফিরে পেয়ে আমরা খুব খুশি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে হিমু আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর স্বজনের খোঁজ না পেয়ে তাকে হাটহাজারীর মহিলা ও শিশু-কিশোরী আবাসন কেন্দ্রে রাখতে আদালতে আবেদন করেন পতেঙ্গা থানার এসআই রুবি রানী বড়ুয়া। পরে আদালতের আদেশে তাকে আবাসন কেন্দ্রটিতে স্থানান্তর করা হয়। একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর মেয়ের নিখোঁজের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় জিডি করেন বাবা হানিফ মিয়া।