স্বামীর লাশের পাশে বসে এভাবে বিলাপ করছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নুর স্ত্রী মালা রাখাইন।
তিনি বলেন, আমার জান (রানা) সোমবার রাতে ভাত খেতে বসেছিল, এমন সময় মোবাইলে একটি ফোন আসে। সে ভাত না খেয়ে বাসা থেকে চলে যায়। আজ লাশ হয়ে এলো আমার জান।
.png)
জানা যায়, তিন বছর আগে প্রেম করে মালা রাখাইনকে বিয়ে করেন সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নু। তাদের ভালবাসা এতই গভীর ছিল যে, মাসুদ রানা পান্নু তার স্ত্রী মালা রাখাইনকে জান বলে ডাকতো। আর তেমনি মালা রাখাইনও তার স্বামী মাসুদ রানা পান্নুকে পাখি বলে ডাকতো।
নিহত মাসুদ রানা পান্নু বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার লক্ষারমাটিয়া গ্রামে সোবাহান মৃধার ছেলে। তিনি দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার বরিশাল ব্যুরা প্রধান ছিলেন। তার মৃত্যুতে বরিশাল জেলাসহ তার নিজ উপজেলা আগৈলঝাড়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহানারা বেগমকে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তার মেয়ে লুৎফুন্নাহার লিমা ও সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নুসহ তার বন্ধুরা। পথে শরীয়তপুরের জাজিরা পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক এলাকায় পৌঁছলে অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নুসহ ৬ জন নিহত হন। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মাসুদ রানা পান্নুসহ পটুয়াখালীর দশমিনার ২৮ বছর বয়সী ফজলে রাব্বি, বাউফলের ৫৫ বছর বয়সী জাহানারা বেগম, তার মেয়ে ৩০ বছরের লুৎফুন্নাহার লিমা, খুলনার দীঘলিয়ার ২৬ বছরের রবিউল ইসলাম এবং মাদারীপুরের ২৮ বছরের জিলানি। এরমধ্যে রবিউল ইসলাম অ্যাম্বুলেন্সটির চালক ছিলেন। মঙ্গলবার মাগরিব বাদ নিহত মাসুদ রানা পান্নুর গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার লক্ষারমাটিয়া গ্রামে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।