ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সিলেটে আবাসিক হোটেলে চার দিনে ৩ লাশ

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
সিলেটে আবাসিক হোটেলে চার দিনে ৩ লাশ
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের হোটেল আল ফয়েজের থেকে ১২ নম্বর কক্ষ থেকে নাজিম উদ্দিন নাজির নামে এক ভিক্ষুকের  লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, স্বাভাবিকভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হরিনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

শুক্রবার অপর একটি আবাসিক হোটেল থেকে শাহেদ মোশারফ নামে আরো একজন ভিক্ষুকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়াও তার দু’দিন আগে বুধবার নগরীর শাপলা আবাসিক হোটেল থেকে হোটেলের পরিচালক জহির মিয়ার সাবেক স্ত্রী নিলীমা বেগম লিলি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

Advertisement

মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সিলেট নগরী থেকে তিনটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।  

জানা যায়, বুধবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বাইপাস রোডের মোমিনখলা এলাকায় শাপলা আবাসিক হোটেল থেকে লিলির লাশটি উদ্ধার করা হয়। হোটেল কর্মচারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হোটেলের দ্বিতীয় তলার ১০৫ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে লিলি নামে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত লিলি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দুলিয়ারবন্দ গ্রামের নুরুল হকের মেয়ে এবং ওই আবাসিক হোটেলের পরিচালক জহির মিয়ার সাবেক স্ত্রী।  

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে হোটেল পরিচালক জহির পলাতক রয়েছেন। তিনি সিলেটের বাইরে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে তৎপর রয়েছে।’ 

এদিকে এ ঘটনায় লিলির বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বন্দরবাজারের লালবাজারে অবস্থিত লাভলী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে অপর ভিক্ষুক শাহেদ মোশারফের লাশ উদ্ধার করা হয়। মোশারফ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও মিয়াপাড়া এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। তিনি লালবাজারে অবস্থিত লাভলী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকে তিনি অসুস্থতা অনুভব করেন। রুমেই বিশ্রামে ছিলেন, কিন্তু ওইদিন দুপুরের দিকে খবর পেয়ে পুলিশ হোটেলের ২৫ নম্বর কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের সময় তার রুমে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার কাগজপত্র পাওয়া যায়। 

পুলিশ ধারণা, তিনি যক্ষ্মা রোগী ছিলেন ও শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মারা গেছেন।

অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন লাশ উদ্ধারের বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস জানান, দক্ষিণ সুরমায় নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া অন্য দুটি লাশ উদ্ধারের বিষয়ও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!