ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিয়ের দাবিতে কলেজছাত্রীর অনশন, পলাতক প্রেমিক

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪৭, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
বিয়ের দাবিতে কলেজছাত্রীর অনশন, পলাতক প্রেমিক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহীর বাঘায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক কলেজছাত্রী। বুধবার রাত থেকে উপজেলার বাউসা ইউপির আড়পাড়া এলাকার প্রেমিক অমিত প্রামাণিকের বাড়িতে অবস্থান নেয় কলেজছাত্রী। ঘটনার পর প্রেমিক অমিত বাড়ি থেকে সটকে পড়েন।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে আছেন কলেজছাত্রী ও তার মা।

জানা যায়, প্রেমিক অমিত প্রামাণিক উপজেলার বাউসা ইউপির আড়পাড়া গ্রামের অশিত প্রামাণিকের ছেলে এবং বিয়ে দাবিতে অবস্থানরত কলেজছাত্রী একই উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা। অমিত এবারে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন এবং তার প্রেমিকা এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।  

Advertisement

অনশনরত কলেজছাত্রীর অভিযোগ, প্রথমে মেসেঞ্জারে কথা, তার পর প্রেম। এভাবে এক বছর গড়িয়েছে অমিতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক। গত বুধবার বাঘা সদরের একটি বিউটি পার্লারে গিয়ে আমার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেয় অমিত। পরে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলতেই সেখান থেকে সটকে পড়ে সে। পরে অমিতের বাড়িতে উঠে পড়ি এবং তার বাবা-মাকে জানায়। তখনও অমিত বাড়িতেই ছিল।

পরে গ্রামের মরুব্বী-মাতব্বরদের নিয়ে বৈঠক বসে। বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য রেজিস্ট্রারকেও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তার পরিবার বেঁকে বসে। বিয়ে মানতে আপত্তি জানায় এবং অমিতকে সরিয়ে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেয়। একারণে কোনো উপায় না পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে বিয়ের দাবিতে অবস্থান গ্রহণ করি।

কলেজছাত্রীর ভাষ্য, যতদিন অমিত আমাকে বিয়ে না করবে, ততদিন এখানেই অনশন করব। আর যদি এখান থেকে যেতেই হয় তবে আমার লাশ যাবে। আমি নই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু আমাদের হিন্দু স্বাস্ত্রে বিধান রয়েছে সিঁদুর পরালে বিয়ে হয়ে যায়, সেহেতু স্বাস্ত্রমতে আমি অমিতের বিয়ে করা বউ। বাড়িতে ফিরে গেলেও সমাজ আমাকে মেনে নেবে না।’

এদিকে, পলাতক থাকায় এ নিয়ে প্রেমিক অমিতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অমিতের বাবা অশিত প্রামাণিক বলছেন, ‘পরিচয় সূত্রে বন্ধুত্ব থাকতে পারে। বিউটি পার্লারে সিঁদুর পরালে বিয়ে হয়না। মন্দিরে পরাতে হয়। মেয়েটি আসার পর বৈঠকে হিন্দু সাস্ত্রমতে বিয়ের কথা বলে অভিভাবকদের মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরে সেটা হয়নি। রাতে মেয়ে আমার বাড়িতে উঠেছে।’

অপরদিকে কলেজছাত্রীর মা বিউটি বিশ্বাস বলেন, সিঁদুর পরালে বিয়ে তো হয়েই যায়। এখন আর মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসার সুযোগ নেই। কিন্তু জামাই পলাতক। তাই বাধ্য হয়ে আজ রাত মা-মেয়ে তার (অমিতের) বাড়িতেই আছি। ঘটনার সুরাহা না হওয়া অব্দি মেয়েকেও বোঝাতে পারছি না।

সমাজ প্রধান গীরেন মণ্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে গ্রামের অরুন সরকারের বাড়িতে বসেছিলাম। ছেলে বিয়ে করতে রাজি ছিল। তার বাবাও বিয়ে দিতে রাজি ছিল। রেজিস্ট্রারকেও ডাকা হয়েছিল। মেয়ে পক্ষের দাবি ছিল বিয়ে রেজিস্ট্রি করা ও মন্দিরে মালা পরানোর। ছেলের বাবা চাচ্ছিল হিন্দু সাস্ত্রমতে বিয়ে দেওয়াসহ লেনদেনের। বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে পরে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শালিসবর্গ উঠে চলে যায়। মেয়েটি ছেলের বাড়িতে উঠেছে।

বাঘা থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। যদি মেয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয় তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার আগে এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় তেমন কিছু নেই।’ 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: রাজশাহী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!