বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ডুবাইরচর গ্রামে। তবে কেনো আত্মহত্যা করেছেন তার বিস্তারিত বর্ণনা সম্বলিত একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। মৃত সুমাইয়া ওই গ্রামের আবুল হাশেমের মেয়ে।
জানা যায়, তিন মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে ঢাকার সবুজবাগ থানার নাছির উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয় সুমাইয়ার। বিয়ের পর স্বামীর সংসার কাটে প্রায় আড়াই মাসেরও বেশি সময়। এ সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে কুমিল্লায় চিকিৎসকের কাছে এসে পরীক্ষার পর জানতে পারেন ক্যান্সারে আক্রান্ত তিনি। এরপরই রিপোর্টগুলো ছিড়ে ফেলেন তিনি।
.png)
একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার বিশ্রামের কথা বলে ঘরে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। দুপুর ২টায় তার ছোট বোন ঘরে গিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখে চিৎকার করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সুমাইয়ার লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।
চিরকুটে সুমাইয়া লেখেন- তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভালো ছিলেন। গত ১৫ দিন আগে দেবরকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন। অসুস্থ হওয়ায় ডাক্তার দেখান। রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পড়ায় সুমাইয়া আত্মহত্যা করেন। সুমাইয়া চিরকুটে আরো উল্লেখ করেন- তার শ্বশুরবাড়ি থেকে দেওয়া শাড়ি গহনাসহ সব যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে সুমাইয়া আরো উল্লেখ করেন ক্যান্সার হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তার বাবা-মার পক্ষে এত টাকা খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
বুড়িচং থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করি। তার পাশেই একটি চিরকুট পেয়েছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।