ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ইতালির কথা বলে ২২ লাখ টাকায় লিবিয়া নিয়ে হত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪৪, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
ইতালির কথা বলে ২২ লাখ টাকায় লিবিয়া নিয়ে হত্যা
ইনসেটে নূর আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা

৮ লাখ টাকা চুক্তিতে দালালের মাধ্যমে ইতালি যেতে চেয়ে শেষ পর্যন্ত লিবিয়ার বেনগাজিতে গিয়ে ২২ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি। পরিবারের লোকেরা এখন তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। 

এমন অমানবিকতার শিকার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামের আব্দুল হালিম মোল্লার ছেলে নূর আলম (৪৩)। তিন ছেলে, এক মেয়ের জনক নূর আলমকে ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে ২২ লাখ টাকা আদায়ের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযাগ স্বজনদের। পুরো পরিবারে এখন চলছে কান্নার রোল।

নুর আলমের বড় ভাই মো. সিরাজ মোল্লা (৪৫) জানান, তারা গ্রামের সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। প্রায় এক বছর দুই মাস আগে তার ভাই নূর আলম ইতালি যাওয়ার জন্য দালাল চক্রের হাতে ৮ লাখ টাকা তুলে দেয়। এরমধ্যে বিদেশে যাওয়ার আগে ৪ লাখ টাকা দেন। বাকি ৪ লাখ টাকা বাংলাদেশ ছাড়ার পরে বোনগাজিতে থাকাকালে নৌপথে ইতালি যাওয়ার কথা বলে আদায় করেন।

Advertisement

সিরাজ জানান, নূর আলমকে লিবিয়ায় নিয়ে বেনগাজিতে একটি বাসায় রাখেন তারা। সেখান থেকে নৌপথে ইতালি নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতালি না নিয়ে বেনগাজির ওই বাসায় দিনের পর দিন আটকে রেখে দালাল চক্র তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এরপর দেশে থাকা পরিবারের কাছে ফোন করে তাকে বাঁচাতে হলে দফায় দফায় টাকা পাঠাতে বলতেন। নূরের প্রাণ রক্ষায় দিশেহারা হয়ে তারা এ পর্যন্ত ২২ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। 

এ অবস্থায় একপর্যায়ে নূর দেশে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেন। তবে দেশে ফিরে দালাল চক্রের সব তথ্য ফাঁস করে দিবে এই আশঙ্কায় তাকে দেশেও ফিরতে দেননি তারা। পরে তার ওপরে নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

সিরাজ জানান, নূর বারবার ফোন করে ওদের নির্যাতনের কথা জানাতো। ওরা তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে তাও বলেছে। সে অনুনয়-বিনয় করে বলতো, তোমরা আমাকে বাঁচাও। 

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দালালরা নূরের বাড়িতে ফোন করে জানায় যে, সে আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগ, আগের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে তাকে হত্যা করে লাশ ঝুঁলিয়ে রাখে তারা।

নূরের মরদেহ এখন লিবিয়ার একটি মর্গে পড়ে আছে বলে তারা জানায়। কিন্তু সেই লাশ কিভাবে দেশে ফিরিয়ে আনবে সেটি তারা জানে না। বৈধভাবে বিদেশ না যাওয়ার ফলে তারা দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না। 

নুর আলমের ছেলে রাসু মোল্লা (২১) ও মেয়ে মিতু (১৭) আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবাকে জানে বাঁচাতে দালালদের দফায় দফায় টাকা দিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। আমরা বাবার লাশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। সেই সঙ্গে দালালদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি। 

নূরের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের পার্শ্ববর্তী বাখারদিয়া গ্রামের মোকছেম মোল্লার ছেলে মফিজ মোল্লা দালাল চক্রের স্থানীয় হোতা। তার সঙ্গে দালাল চক্রের সদস্য রয়েছেন একই গ্রামের সিরাজ মুন্সির ছেলে লিটন মুন্সী, মাঝারদিয়া গ্রামের আনারদ্দী মোল্লার ছেলে তারাব মোল্লা ও নগরকান্দার ধর্মদী গ্রামের খোরশেদ মোল্লার ছেলে মিজান মোল্লা। তারা সবাই লিবিয়ায় থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। 

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন শাহিন বলেন, নূর আলমের ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যম জানতে পারলাম। নূরের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: ফরিদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!