ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দশ টাকা চাওয়ায় সন্তান হত্যা, মায়ের ১০ বছর কারাদণ্ড

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:২৪, ১ মার্চ ২০২৩
দশ টাকা চাওয়ায় সন্তান হত্যা, মায়ের ১০ বছর কারাদণ্ড
ফাইল ফটো

লক্ষ্মীপুরে ১০ টাকা চাওয়ায় আট বছর বয়সী নিজ শিশু সন্তান মো. কাউছারকে হত্যার ঘটনায় মা স্বপ্না বেগমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত স্বপ্না লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চররুহিতা গ্রামের হাসানুজ্জামানের মেয়ে।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর ১০ টাকা চাওয়ায় শিশু কাউছারকে তার মা স্বপ্না গলা টিপে হত্যা করেন। এর ১০ বছর আগে রাসেল হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে স্বপ্নার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৮ বছর বয়সী কাউছার ও ছয় বছর বয়সী ছাব্বির হোসেন নামে দুইটি সন্তান ছিল। ২০১৭ সালে রাসেল চট্টগ্রামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে স্বপ্নার সঙ্গে তার কলহ সৃষ্টি হয়। এতে প্রায়ই স্বপ্না বিভিন্ন কারণে তার দুই ছেলেকে মারধর করতেন।

Advertisement

ঘটনার দিন স্বপ্না প্রতিবেশী সেলিনা বেগমের ঘরে পিঠা বানাচ্ছিল। কাউছার সেখানে গিয়ে তার কাছে কিছু খাওয়ার জন্য ১০ টাকা চায়। টাকা না দিয়ে তিনি ছেলেকে ঘরে গিয়ে ভাত খাওয়ার জন্য বলেন। এতে কাউছার ঘরে চলে যায়। এরপর তিনিও ঘরে যান। কিন্তু কাউছার জানায় সে ভাত খাবে না, তাকে ১০ টাকা দিতে হবে। এতে উত্তেজিত হয়ে স্বপ্না খাটের ওপর ছেলেকে গলা টিপে হত্যা করেন। ছেলে মারা গেছে বুঝতে পেরে তিনি ঘটনাটি ফাঁসের ঘটনা ও অন্য কেউ হত্যা করেছেন বলে প্রচারণা চালান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় পরদিন ১৫ অক্টোবর রাসেল বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শিশু কাউছারকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ মেলে। হত্যার পর তার গলায় রশি লাগানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১০ মার্চ স্বপ্নার বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার এসআই আবুল বাশার খন্দকার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন জানান, ১০ টাকা চাওয়ায় নিজ ছেলেকে আসামি গলা টিপে হত্যা করেন। আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আসামির বয়স, আচরণ ও শিশু বাচ্চাকে লালন পালনসহ মানবিক কারণে বিচারক তাকে প্রভিশনাল রায় দেন। এতে আসামি তার বাড়িতেই থাকবেন। এরমধ্যে তিনি কোনো অপরাধে জড়াতে পারবেন না। এটি জেলা সমাজসেবা কার্যালয় তদারকি করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!