পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে ১৬ হাজার কি.মি হেঁটে খুলনায় ভারতীয় রোহান
স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রোহান আগারওয়াল। বয়স ২১। বাড়ি ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর এলাকায়। প্লাস্টিক দূষণ রোধে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার হেঁটে এখন খুলনায় অবস্থান করছেন। দেখা করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র, রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে। জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ভারতের ২৭টি রাজ্য, নেপালের বিভিন্ন এলাকা ও বাংলাদেশের ৪৫টি জেলা ঘুরেছেন রোহান। খুলনায়ও চালাচ্ছেন সেই প্রচারণা। বিভিন্ন দেশ ঘুরে যাবেন পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান সাইবেরিয়ার ওমিয়াকোম এলাকায়।
বুধবার বিকেলে রোহান আগারওয়াল প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান নগরীর শিববাড়ি মোড়ে। প্ল্যাকার্ডে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধের বার্তা লেখা ছিল। এ সময় উৎসুক লোকজন দাঁড়িয়ে দেখার পাশাপাশি কথা বলেন তার সঙ্গে। রোহান ভারতের গভর্নমেন্ট সিকিম প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
রোহান আগারওয়াল বলেন, ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে হাঁটা শুরু করি। সেখান থেকে নিজ দেশের ২৭টি রাজ্যে হেঁটেছি। এই যাত্রায় আমার উদ্দেশ্য প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো। আমি মনে করি একজন মানুষ ছোট হোক, বড় হোক, ধনী বা গরিব হোক, কৃষক হোক বা ব্যবসায়ী প্রত্যেকেই জন্মের পর থেকেই পরিবেশ থেকে অক্সিজেন নেয়। আমরা যে খাবার খাই, পানি খাই সব কিছু প্রকৃতি থেকে আসে। অথচ তার পরিবর্তে আমরা পরিবেশ দূষণ করছি। এ বিষয়টি বোঝা খুবই জরুরি।
.png)
কারণ আমরা যদি আজকে না বুঝি তাহলে আগামীতে খুবই সমস্যা হয়ে যাবে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসছে এগুলো আরো বেশি ভয়াবহ হবে। এ জন্য এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে আমি এই যাত্রায় এসেছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমি ৯৪০ দিন এই যাত্রা করছি। ১৬ হাজার কিলোমিটার হেঁটেছি এবং কখনো কখনো লিফটও নিয়েছি।
রোহান বলেন, বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় আমি যাবো। এরপর মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, চীন, হংকং, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়াসহ ২০টি দেশ ঘুরে সাইবেরিয়া যাবো। সাইবেরিয়ার ওমিয়াকোম পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান। যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৭২ ডিগ্রি পর্যন্ত যায়। সাইবেরিয়া যাওয়ার জন্য আমার আরো ৫ বছর সময় লাগবে। যদি কেউ অনলাইনে এই যাত্রায় অংশ নিতে চান তাহলে আমার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে যুক্ত থাকবেন।
যাত্রা পথের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোহান বলেন, প্রায় তিন বছর এই যাত্রা করছি। যাত্রায় কখনো ভালো মানুষের দেখা মেলে, আবার কখনো খারাপ। কখনো কখনো না খেয়েও থাকতে হয়, আবার কখনো ডাকাতেরও দেখা মেলে।
তিনি বলেন, সোমবার রাতে খুলনায় এসেছি। এখানে মেয়র, রাজনৈতিক দলের নেতা, এনজিও’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মতবিনিময় করেছি। পরিবেশ বিষয়ে আমার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি।
রোহান বলেন, আমি ভারতের গভর্নমেন্ট সিকিম প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমি অনলাইনে লেখাপড়া করি। ব্যাচেলর অব কমার্স নিয়ে পড়ছি। অনলাইনে ক্লাস করি, তাই সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। আমার বাবা ও মা আর ছোট এক বোন রয়েছে। বাবার ছোট একটি দোকান রয়েছে।
মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গে দেখা করেন রোহান আগারওয়াল।
রোহানের পদযাত্রার সহযোগিতায় এগিয়ে আসা খুলনার যুবক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, রোহান ভারতের বিভিন্ন রাজ্য পায়ে হেঁটে ঘুরে নেপাল ভ্রমণ শেষে বাংলাদেশে এসেছে। দেশের ৪৫টা জেলা ভ্রমণ করে পদযাত্রা করে ৪৬তম জেলা হিসেবে খুলনায় এসেছে। তার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
রোহান বলেন, গত বছরের অক্টোবরে ফেনীর বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসি। প্রায় ১৩০ দিন বাংলাদেশে রয়েছি। পরিবেশ সম্পর্কে আমার বার্তা দেয়ার জন্য আমি অনেক স্কুল এবং প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি।
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, রোহান নিজ দেশসহ বহুদেশ ঘুরেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছে। খুলনায় এসেছে। তার এই বয়সে পরিবেশ নিয়ে যে উদ্যোগ, আমি এটার প্রশংসা করি। সবাই এটা করেও না এবং করতে চাইও না। আমি মনে করি তার একটা সফলতা অবশ্যই আসবে।