ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বৃদ্ধার ১৪ শতাংশ জমি লিখে নিল প্রতারকচক্র

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৪৩, ১০ মার্চ ২০২৩
বৃদ্ধার ১৪ শতাংশ জমি লিখে নিল প্রতারকচক্র
রওশনা বেগম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আমি বুড়া মানুষ, চোহ ঠাওর পাই না, পড়া লেখা জানি না, মুর্খ মানুষ, অরা মোরে বয়স্ক ভাতায় একটা নাম দিয়া দেবে, হেই কথা কইয়া বাউফল একটা অফিসে নিয়া অনেকগুলা কাগজে টিপ সই নেছে। হ্যারপর এহন হুনি আমি মা'র যে জমি পাইছি হ্যা বলে সব অগোরে (মামাত ভাইয়ের ছেলেদের) লেইখ্যা দিছি। আমি বুঝি নাই ওরা আমারে এমন ডাকাতি করবে, আল্লায় অগো বিচার করবে, আমি সোজা মানুষ, আমি এইসব বুঝি না, স্যার আমার জমিডু আমারে ফিরাইয়া দ্যান’।

কান্না করতে করতে সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি জানান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রওশনা বেগম নামে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) শহিদুল ইসলাম, মো. মোসলেম ও মো. মামুনের হোসেন নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

রওশনারা বেগমের ছেলে মো. হুমায়ুন কবির (৪৫) বলেন,‘ আমার মা অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ। তাকে বয়স্ক ভাতার নাম দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে বাউফল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে শহিদুল ইসলাম, মোসলেম ও মামুন প্রত্যেকে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ করে মোট ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ জমি দলিল করে নিয়ে যায়। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে শহিদুল, মোসলেম মামুনের কাছে জানতে চাইলে তারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসার আশ্বাস দেন। এরপর গত রোববার স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেবেন বলে স্বীকার করেন তারা। কিন্তু এখন টাকা চাইলে তারা বলে, কোনো টাকা দেওয়া হবে না, জমি তারা কিনে নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোসলেম ও মামুন হোসেনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, এই অভিযোগ মিথ্যা, রওনারা বেগম স্বেচ্ছায় আমাদেরকে জমি লিখে দিয়েছেন। 

এ বিষয়ে কেশবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন পিকু বলেন, উভয় পক্ষ নিয়ে বসে মীমাংসা করার উদ্যোগ নেয়া হবে। 

বাউফল সাব- রেজিস্ট্রি অফিসের সাব- রেজিস্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমা বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রি করার আগে আমি জমি দাতা নারীর কাছে একাধিকবার জানতে চাই তিনি স্ব ইচ্ছায় জমি দিচ্ছেন কিনা। সব জেনে শুনেই জমি রেজিস্ট্রি হয়। এমন ঘটনা ঘটার কথা নয়। তারপরেও যদি প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে দলিল বাতিলের জন্য ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করতে পারেন।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!