ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কৃষি কাজ করেও ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেলেন রাতুল

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৩১, ১৩ মার্চ ২০২৩
কৃষি কাজ করেও ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেলেন রাতুল
পরিবারের সঙ্গে রাতুল হাসান

রাতুল হাসান। ছোটবেলা থেকে মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন ছিল তার। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কৃষক বাবাসহ পরিবারের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি।  নিজের চেষ্টা, পরিবারের সদস্যদের এবং চাচা আনোয়ার হোসেন লিটন ও মামা আব্দুর রাজ্জাকসহ শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় অদম্য মেধাবী এ শিক্ষার্থী নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। কোনো বাধাই দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেড়ে উঠা রাতুলকে। তিনি মেধা তালিকায় ১৭৬তম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন রাতুল হাসান। ফলে রাতুলের পরিবারের বইছে আনন্দের বন্যা।

রাতুল পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেনের ছেলে। বাবা মো. মনোয়ার হোসেন পেশায় একজন সাধারণ কৃষক ও মা মোছা. রেবেকা খাতুন গৃহিনী। দুই ভাইয়ের মধ্যে রাতুল বড়। ছোটবেলা থেকেই তিনি খবুই মেধাবী ছিলেন। 

জানা যায়, রাতুল বাড়ইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।২০২০ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। পরে পাবনা সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হয়ে ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পান তিনি। এ ছাড়া রাতুল শিক্ষাজীবনে বৃত্তিসহ বিভিন্ন মেধা নির্বাচনি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেন। মেডিকেলে ভর্তি এক ঘণ্টা সময়ের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় রাতুল পেয়েছেন ৮০ দশমিক ২৫। তার মেরিট স্কোর ২৮০ দশমিক ২৫। 

Advertisement

এদিকে সুজানগর উপজেলা থেকে একমাত্র ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থী রাতুলের পরিবার, তার নিজ গ্রামসহ উপজেলায় বইছে আনন্দের বন্যা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে উপজেলার একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে রাতুল চান্স পাওয়ায় পুরো উপজেলার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাকে। 

রাতুল বলেন, ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় প্রথমেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। আর সেই লক্ষ্যে আমি লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছি। সরকারি মেডিকেলে চান্স পেয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যাতে একজন আদর্শবান ডাক্তার হয়ে নিজ গ্রামসহ আমাদের উপজেলার দরিদ্র-অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, আমি সাধারণ কৃষক পরিবারের একজন সন্তান হওয়ায় নিজে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঠে বাবার কৃষি কাজেও সহযোগিতা করতাম। আমার এই ভালো ফলাফলের পেছনে মা-বাবা, চাচা, মামা ও শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম।

ছেলের এই সাফল্যে আনন্দে কেঁদেই ফেলেন রাতুলের মা-বাবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, ছেলের সাফল্যে খুব আনন্দ হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। আমাদের ছেলে যাতে ভালো ডাক্তার হয়ে গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে, সেজন্য সবার দোয়া কামনা করছি। 

রাতুলের চাচা আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, ছোটবেলা থেকেই রাতুল লেখাপড়ায় ছিল অদম্য মেধাবী। অবশেষে আমাদের পরিবারের সবার প্রচেষ্টা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও সর্বোপরি রাতুলের নিজ প্রচেষ্টায় সে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। 

মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের বলেন, রাতুল খুবই মেধাবী ছাত্র। সে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তার কৃতিত্বে আমরা গর্বিত। 

সুজানগর ইউএনও মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, রাতুল তার লালিত স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে একজন গর্বিত ডাক্তার হয়ে যেন দেশের সাধারণ মানুষের সেবা করতে পারেন সেই প্রত্যাশা রাখছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!