ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
পরমাণু চিকিৎসা ইনস্টিটিউট, ফরিদপুর

একযুগেও চালু হয়নি ক্যান্সার ইউনিট

হারুন আনসারী, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১০:৫৩, ১৬ মার্চ ২০২৩
একযুগেও চালু হয়নি ক্যান্সার ইউনিট
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে বিকল হয়ে পড়ে থাকায় মিলছে না পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের বিশেষায়িত চিকিৎসা। 

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠার প্রায় একযুগ পরেও চালুই করা যায়নি ক্যান্সার ইউনিট। ফলে এ অঞ্চলের রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদেরকে চিকিৎসা নিতে নিদেনপক্ষে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। সামর্থ্য থাকলে তারা বেশিরভাগ চিকিৎসা নিতে ছুটছেন পাশের দেশে। এতে প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারালেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অবশ্য আগামী অর্থবছরে দেশের পাঁচটি পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। 

জানা গেছে, তেজষ্ক্রিয়তা ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও রোগের চিকিৎসাকে বলা হচ্ছে নিউক্লিয়ার মেডিসিন। এ উপায়ে ক্যান্সার, থাইরয়েডসহ নানা জটিল রোগ স্বল্প সময়ে সহজে সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়। দেশের ১৭ ইনস্টিটিউটে বর্তমানে এ সেবা চালু আছে। আরও আটটি ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ চলছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়।

Advertisement

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র বা ইনস্টিটিউট অব নিউরো মেডিসিন সায়েন্স স্থাপিত হয় ১৯৯৭ সালে। এখানে স্পেক্ট গামা ক্যামেরা, প্লানার গামা ক্যামেরা, থাইরয়েড আপটেক সিষ্টেম, বোন মিনারেল ডেনসিটোমিটার, আল্ট্রাসনোগ্রাম, কালার ডপলার, দ্বি/ত্রি মাত্রিক আল্ট্রাসনোগ্রাম, সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি থাকার কথা থাকলেও জনবল ও অন্যান্য নানা সমস্যা কারণে বেশিরভাগ সময়েই কাঙিক্ষত সেবা মিলেনি। 

ফরিদপুর আইএনএমএএসের পরিচালক ডা. শংকর কুমার দে জানান, ইনমাসের স্ক্যানিং মেশিন ছয় মাস ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। মেশিনটির আর সার্ভিসিং করা যাবে না বলে কোম্পানি জানিয়েছে। ফরিদপুরে ক্যান্সার নির্ণয়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সিটিস্ক্যান মেশিনও নেই। তাই ক্যান্সার, থাইরয়েডের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়। ঢাকায় রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় সিরিয়াল পেতে দেরি হয়; খরচও অনেক বেড়ে যায়।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে ফরিদপুরের পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের এখানে প্রায় আড়াই লাখ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বাইরের তুলনায় তাদের কম খরচ গুনতে হয়েছে। বর্তমানে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে গিয়ে এখানকার রোগীদের কয়েকশো গুণ বেশি অর্থ গুনতে হয়েছে। একশ্রেণির মুনাফালোভীদের সুবিধার্থেই এসব যন্ত্রপাতি বেশিরভাগ সময় বিকল থাকে বলেও রোগীরা অভিযোগ করেন। 

বেসরকারি ক্লিনিকের চেয়ে এখানে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যায় বলে তারা পরমাণু সেবা ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক মানের পিইটি-সিটি, বিএমডি, থাইরয়েড গামা ক্যামেরা, থাইরয়েড আপটেক এবং কালার ডপলার মেশিন স্থাপনের দাবি জানান। এতে গ্রামের দরিদ্র মানুষ কম খরচে জেলা শহরে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের মাধ্যমে উন্নত সেবা পাবে।

জানা যায়, কম খরচে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের মাধ্যমে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকার মিটফোর্ড, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল ও বগুড়ার আইএনএমএএসের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে এসব কেন্দ্রের রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। এজন্য ২১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ২০২৫ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। অনুমোদন পেলে আগামী অর্থবছরে শুরু হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ।

এদিকে, ফরিদপুরের বিএসএমএমসি হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটের জন্য কোটি কোটি টাকা দামের মূল্যবান যন্ত্র কেনার পর সেগুলো অব্যবহৃত অবস্থাতেই অচল হয়ে পড়লেও এখনো চালুই করা যায়নি ক্যান্সার চিকিৎসা। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় গত প্রায় এক যুগেও ফরিদপুরে ক্যান্সার রোগীদের সুচিকিৎসা প্রদানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা গেছে, বিএসএমএমসিএইচ-এর জন্য একটি ক্যান্সার ইউনিট তৈরির প্রকল্প শুরু করা হয় ২০১১-১২ অর্থবছরে। এরপর হাসপাতালের দক্ষিণে একটি ভবন নির্মাণ করা হয় এবং ২০১৬ সালে ক্যান্সার ইউনিটের জন্য ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘লিনিয়ার এক্সিলারেটর’ মেশিন কেনা হয়। তবে যন্ত্রপাতি চালু করা যায়নি। এটি পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম ও জনবল নেই। একটি ‘সিটি সিমুলেটর’ সংগ্রহ করা হলেও এটি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএসএমএমসির ক্যান্সার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোনাইম মোল্যা বলেন, ক্যান্সার ইউনিট পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়সহ অন্তত ২০ জনের প্রয়োজন। যা এখানে নেই। 

ফরিদপুরের বিএসএমএমসি হাসপাতালের পরিচালক ডা. এনামুল হক বলেন, এতদঅঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল চেয়েছি। এসব পেলে হয়তো ইউনিটটি সচল করতে পারবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!