ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
কালোবাজারিদের ফাঁদ

ট্রেন ভ্রমণে চেকিং এড়াতে স্ট্যান্ডিং টিকিট!

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১৬ মার্চ ২০২৩
ট্রেন ভ্রমণে চেকিং এড়াতে স্ট্যান্ডিং টিকিট!
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে কমেনি টিকেট কালোবাজারির দৌরাত্ম্য। সংঘবদ্ধ টিকেট কালোবাজারিরা পাল্টিয়েছে তাদের কৌশল। এখন আসনযুক্ত টিকিটের সঙ্গে যাত্রীদেরকে তারা দিচ্ছে আসন বিহীন স্ট্যান্ডিং টিকিটও।

ট্রেন ভ্রমণে চেকিং এড়াতে কৌশলে শুরু করেছে এ ব্যবসা। যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে তাদের কাছ থেকে আসনযুক্ত ও আসন বিহীন টিকিট ক্রয় করছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। 

জানা গেছে, ট্রেন ভ্রমণে গত ১ মার্চ থেকে যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে টিকিট ক্রয় চালু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ম চালুর দুইদিনের মাথায় আসন বিহীন টিকিট ক্রয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের বাধ্যবাধকতা বাতিল করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে করে যাত্রীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে টিকিট কালোবাজারিরা আবারো তৎপর হয়ে উঠে। 

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন-ডেইলি বাংলাদেশ

সংঘবদ্ধ টিকিট কালোবাজারিরা নানা কৌশলে নিজসহ বিভিন্নজনের আইডি দিয়ে টিকিট কেটে অতিরিক্ত দামে সেগুলো যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছেন। সেই সঙ্গে আসনযুক্ত টিকিটের সঙ্গে ট্রেনে চেকিংসহ ঝামেলা এড়াতে যাত্রীদের একটি স্ট্যান্ডিং টিকিট নিতে বাধ্য করছেন। কেউ যদি এভাবে টিকিট নিতে না চায় তাহলে দিচ্ছে না। তবে কেউ কেউ নিজ দায়িত্বে কালোবাজারির কাছ থেকে শুধু আসনযুক্ত টিকিট ক্রয় করে ভ্রমণ করছেন। 

একাধিক সূত্র জানায়, নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর দুই দিন কালোবাজারিরা স্টেশনে ছেড়ে দেয়। আসন বিহীন টিকিট ক্রয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের বাধ্যবাধকতা বাতিল করায় তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠে। 

 আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন-ডেইলি বাংলাদেশ

রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, সকাল থেকে পূর্বের ন্যায় সংঘবদ্ধ টিকিট কালোবাজারিরা স্টেশনের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কয়েকজন টিকিট টিকিট বলে প্রকাশ্যে হাঁকডাক দিচ্ছে। তাদের কাছ থেকে অনেক যাত্রী টিকিট কিনে ভ্রমণ করছেন। তবে ওই টিকিট বিক্রির সময় তারা যাত্রীদেরকে নতুন শর্ত জুড়ে দেন। ফলে তাদের তৈরি নিয়মে আসনসহ টিকিটের সঙ্গে আসন বিহীন টিকিট নিতে হচ্ছে যাত্রীদের রেলওয়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট লোকজন দেখে ও যেন না দেখার বান করছেন। 

আখাউড়া থেকে ঢাকা যেতে যেখানে ১৬০ টাকা ভাড়া রয়েছে সেখানে কালোবাজারির কাছ থেকে প্রতি টিকিটে ২শ টাকার বেশি দিয়ে টিকিট ক্রয় করছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি ট্রেনে চেকিংসহ ঝামেলা এড়ানে আরো একটি আসনবিহীন টিকিট নির্ধারিত মূল্যে কাউন্টার থেকে ক্রয় করে যাত্রীরা ভ্রমণ করছে। 

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন-ডেইলি বাংলাদেশ

পৌর শহরের রাধানগর এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ নার্গিস আক্তার জানান, স্বামী অসুস্থ। ডাক্তার দেখাতে উপকূল ট্রেন দিয়ে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। নতুন নিয়মে রেজিস্টেশনও করা আছে। অনেক চেষ্টা করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। তাছাড়া সড়ক পথে এই রোগী নিয়ে যাওয়া ও অনেক কষ্টকর। তাই তার এক পরিচিত লোকের মাধ্যমে কালোবাজারির কাছ থেকে ২টি আসনযুক্ত ও কাউন্টার থেকে আরো ২টি আসনবিহীন টিকিট ক্রয় করছেন। আসন যুক্ত প্রতি টিকিটে ২শ টাকা বেশি দিতে হয় বলে জানান। আর টিকিট কাউন্টার থেকে আসন বিহীন টিকিট নির্ধারিত মূল্যেই নেয়া হয়। ট্রেনে কোনো প্রকার সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে লোকজন চেকিং করলে তাদেরকে যেন স্ট্যান্ডিং টিকিট দেখানো হয় এ কথা কালোবাজারিরা তাদেরকে বলে দিচ্ছেন। 

ট্রেন যাত্রী মোবারক হোসেন জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে কর্মস্থল ঢাকা যেতে ফিরতি কোনো টিকিট পাচ্ছেন না। 

তিনি আরো জানান, নতুন নিয়মে তার রেজিস্ট্রেশন করা আছে। বাধ্য হয়ে টিকিট কালোবাজারির কাছ থেকে ২টি টিকিট নিয়েছেন। এরমধ্যে অতিরিক্ত ২টি আসনবিহীন টিকিটও নিতে হয়েছে। কালোবাজারিরা তাকে বলেছেন নতুন নিয়ম হওয়ায় এখন ট্রেনে খুবই কড়াকড়ি চলছে। ট্রেনে মোবাইল কোর্ট হলে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেখাতে বলেছে। আসন যুক্ত টিকিট যেন না দেখানো হয় এ জন্য শর্ত দেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টিকিট কালোবাজারি জানান, নতুন পদ্ধতিতে টিকিট নিতে আমাদের অনেক ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। তাই আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কাটা হচ্ছে। যার আইডি কার্ড দিয়ে টিকিট কাটে, তাকে প্রতি টিকিটে ৮০ থেকে ১শ টাকা দেওয়া হয়। 

রেলওয়ে স্টেশন সুপার মো. কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, রেলওয়ের নতুন পদ্ধতি প্রশংসা কুড়িয়েছে। যাদের রেজিস্ট্রেশন করা আছে তাদের টিকিট কাটতে কোনো প্রকার অসুবিধে হচ্ছে না। নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ায় স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি নেই বলে চলে। যাত্রীরা কালোবাজারির কাছ থেকে টিকিট ক্রয় করে সেই সঙ্গে কাউন্টার থেকে অতিরিক্ত আসন বিহীন টিকিট ক্রয় করে ভ্রমণ করছেন এ বিষয়টি জানা নেই বলে জানায়।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!