সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী পপি ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে এসে বাড়ির পাশেই খেলছিল। এ সময় তখন রুনা তাকে ডেকে ঘরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে রুনা তার কানের দুলগুলো খুলে নেয়ায় পপি কান্না শুরু করে। এজন্য তার মুখ-গলা চেপে ধরলে পপি মারা যায়। পরে তার লাশ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখে রুনা। বাড়ি ফিরলে তার স্বামীকে বিষয়টি জানায় রুনা। পরে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন তারা।
.png)
পপিকে তার মা ববিতা রানী সাহা ডাকলেও কোনো সাড়া পাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এছাড়া দুপুরে রুনা ও এমরানের ঘর বন্ধ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় এক নারী জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর তাদের দেখতে পান। পরে লোকজন ঘরে ঢুকে রুনা ও তার স্বামীকে আটক করেন। সেখান থেকে পপির লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ঐদিন রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছত্রীর মা ববিতা বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পরের দিন পুলিশ রুনা ও এমরানকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।
রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের পূর্ব কেরোয়া গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে এমরান গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। এমরানের স্ত্রী রুনা ঐ গ্রামের আবদুল মতিনের মেয়ে। ঘটনার তিন মাস আগে থেকে রুনা ও এমরান উপজেলার সাগরদি গ্রামের কাতার প্রবাসী আবুল কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন।
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন জানান, রুনা আক্তার আঁখি সোনার কানের দুলের লোভে স্কুলছাত্রী পপিকে হত্যা করেন। রুনা আক্তার আঁখি বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া রুনার স্বামীও এ মামলার আসামি ছিলেন। তবে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত না থাকায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন।