ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চুরির মোটরসাইকেল ৩ হাত ঘুরে চলে যেত সন্দ্বীপে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪৬, ২৬ মার্চ ২০২৩
চুরির মোটরসাইকেল ৩ হাত ঘুরে চলে যেত সন্দ্বীপে
গ্রেফতারকৃতরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে নগরের কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নগর পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে, শনিবার নগর ও সন্দ্বীপ উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সন্দ্বীপ উপজেলার গাছুয়া চুম এলাকার মাঝির বাড়ির মো. বাবর, একই উপজেলার কালাপানিয়া এলাকার ফয়েত আলী হাজী বাড়ির মো. শাহেদ, জুরি ধরের বাড়ির মো. রিপন, সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ তুলাতলী বণিক পাড়া এলাকার মিঠন ধর ও লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার ইব্রাহীম সওদাগর বাড়ির মো. খোরশেদ আলম। তাদের মধ্যে মিঠন ধর মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের মূলহোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের সন্ধান মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে কোতোয়ালি থানার পুরাতন রেলস্টেশন সংলগ্ন গ্রামীণ মাঠের রাস্তার ওপর থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের মূলহোতা মিঠন ধর ও মো. বাবর ওরফে বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাঁচ সহযোগীর তথ্য দেন তারা। তাদের সহায়তায় চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে চুরি করা মোটরসাইকেল সন্দ্বীপে বিক্রি করা হতো।

একইদিন সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ঐ পাঁচ সহযোগীর দুইজন শাহেদ ও রিপনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে আরো দুই সহযোগী মো. দিদার হোসেন ও মো. নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে মিঠন ধরের দেওয়া তথ্যে কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে অপর এক সহযোগী খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মিঠন ধরের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া থানায় তিনটি চুরির মামলা, মো. বাবরের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি ও খুলশী থানায় দুইটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা এবং খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় একই অপরাধে একটি মামলা রয়েছে।

নগর পুলিশের ডিসি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান গ্রেফতারকৃতরা। এর মধ্যে প্রথম দলের সদস্যরা চুরি করে দ্বিতীয় দলের লোকদের দিতেন। তারা সেটি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করতেন। তৃতীয় পক্ষ সন্দ্বীপে পৌঁছে দিতেন। সেখানে সাধারণ মানুষের মাঝে এসব মোটরসাইকেল বিক্রি করা হতো। এভাবে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ৫০টি মোটরসাইকেল বিক্রির তথ্য দিয়েছেন তারা। আমাদের ধারণা সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি।

কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, গ্রেফতারকৃত পাঁচজনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!