জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রসব ব্যথা নিয়ে ফরিদপুর শহরের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় রিক্তা নামের ওই নারী। পরে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তড়িঘড়ি করে সিজার করানোর জন্য ওটিতে নেয়া হয় তাকে। কিন্তু সিজার করতে গিয়ে বাজে বিপত্তি। সিজারকালে গর্ভবতী নারীর জরায়ু কেটে যায়। পরে সিজার করে পেটের বাচ্চা বের করতে পারলেও ওই নারীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় রোগীর স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে হাসপাতাল এলাকা।
ওই নারীর শ্বশুর মো. রফিক মোল্যা অভিযোগ করেন, আমার ছেলের বউয়ের প্রসব বেদনা উঠলে শহরের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালতে নিয়ে আসি। ওইদিন সন্ধ্যায় আমার ছেলের বউকে নার্স ও আয়ারা বাচ্চা প্রসব করাতে ওটিতে নেয়। কিছুক্ষণ পর এসে বলে রোগীর অবস্থা ভালো না। জরুরি সিজার করতে হবে। ৩০ মিনিট পরে বলে বাচ্চা এবং মা দুই জনের অবস্থাই খারাপ। বাচ্চা বাঁচলেও মা বাঁচবে না এবং মাকে বাঁচালে বাচ্চা বাঁচবে না। তখন মহাবিপদে পড়ে যাই আমরা। এরপর নার্সরা এসে বলে পেট কেটে বাচ্চা বের করলে কারোই সমস্যা হবে না। জরুরি রক্ত লাগবে এবং অনাপত্তি পত্রে সই করেন।
.png)
কিছুক্ষণ পরে আমাদের জানানো হয় পুরো জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ইফতারির টাইমে ডাক্তারা না থাকায় নার্স এবং আয়ারা মিলে সিজার করেছে। তাই আমার ছেলের বউয়ের সারা জীবনের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন ডাক্তার দিয়েই সিজার করা হয়েছে। নার্স কিংবা আয়া দিয়ে নয়।
রিক্তার শ্বশুর রফিক মোল্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন ডা. কল্যাণ কুমার সাহা ও ডা. মো. জাহাঙ্গীর এ সিজার করেছেন। আমরা এ সিজারের সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে ডা. কল্যাণ কুমার সাহা ও ডা. মো. জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
রিক্তার স্বজনরা জানান, দেড় বছর আগে রফিক মোল্যার ছেলে রুবেল মোল্যার সঙ্গে বিয়ে হয় রিক্তার। রুবেল কৃষি কাজ করেন। এই প্রথমই রিক্তা মা হলেন। কিন্তু জরায়ু হারিয়ে রিক্তা এখন মরণ যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে ছটফট করছে। এ পর্যন্ত চার ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। আরও রক্ত দেয়া লাগবে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহ মোহাম্মাদ বদরুদ্দোজা মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। ওই পরিবার আমাদের লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। তিনি আরো বলেন, সিভিল সার্জন ঢাকায় একটি ট্রেনিংয়ে আছেন।