ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সৌদিতে নিহত কুমিল্লার ৩ জনের বাড়িতে শোকের মাতম

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ২৯ মার্চ ২০২৩
সৌদিতে নিহত কুমিল্লার ৩ জনের বাড়িতে শোকের মাতম
নিহত মামুনের পরিবার -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। জেদ্দা থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী বাসটি গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে মোট ২২ জন নিহত হন। নিহত ১৩ বাংলাদেশির মধ্যে দুই জনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে আর এক জনের বাড়ি দেবিদ্বারে।

নিহতরা হলেন, মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোস্তাাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আউয়াল মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২২) ও একই উপজেলার রাসেল মোল্লা। অপরজন, দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার গ্রামের মীর বাড়ির আব্দুল হামিদের ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন।

বুধবার (২৮ মার্চ) সকালে মোস্তাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আউয়াল মিয়ার ছেলে মামুন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় করুণ দৃশ্য। ঘরের ভেতর আর্তনাদ করছেন মা মমতাজ বেগম। পাশে বসে আছেন বাবা আউয়াল। দুই বোন আছেন অন্য ঘরে। তারাও কান্না ভেঙে পড়েছেন। স্বজনরা ভিড় করছেন বাড়িতে।

Advertisement

জানা গেছে, মামুন ৬ মাস আগে সৌদি আরব গেছেন। সংসারের অভাব মেটাতে জেলে পেশা ছেড়ে চার লাখ টাকা ঋণ করে মোট পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে প্রথমে মামুন সৌদিতে যান। পরে বড় ভাই হারিছ মিয়াকেও সৌদি নিয়ে যান।

মামুনের বাবা আউয়াল মিয়া বলেন, দুই মাসে ৫০ হাজার টাকা পাঠান বাড়িতে। বাকি দুই মাসের টাকা জমান ওমরা করার জন্য। ওমরায় রওনা হওয়ার আগে বাবাকে কল দিয়ে দোয়া চান।

তিনি আরো বলেন, যদি জানতাম আমার ছেলে লাশ হবে। আমি কি যাইতে দিতাম? আমার ছেলের লাশ সরকার যেনো আমাদের দেখার সুযোগ দেন। আমি আমার ছেলের লাশ চাই। 

মামুনের মামি তাছলিমা বেগম বলেন, তারা তিনজন একই রুমে থাকতেন। রুমে থেকে এক সঙ্গে একই বাসে যাচ্ছিলেন। বাসে যেতে যেতে ইয়ার হোসেন তার স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। কথা বলার মাঝেই ঘটে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় ইয়ার হোসেন ও জাহিদুল বের হতে পারলেও বের হতে পারেননি মামুন।

ইয়ার হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি। সেখান থেকে তিনি তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে জানিয়েছেন, পুরো বাস পুড়ে গেলে মামুনসহ বাকিরা আর বের হতে পারেনি। একদিন পরেও মামুনকে না পেলে হাসপাতালে সংরক্ষিত একটি লাশ মামুনের বলে শনাক্ত করেন। জাহিদুল ও হারিছ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।

মুরাদনগরের উপজেলা ইউএনও আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, একই পরিবারের তিনজন দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছেন। একজন মারা গেছেন। মাত্রই নিহত মামুনের বাড়ি এসেছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। তাছাড়া তার লাশ দেশে আনার জন্য যা যা করা দরকার সব করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: কুমিল্লা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!