ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘আগুনে পুড়ে ছেলেটা কত না কষ্ট পেয়েছে’

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৫, ২৯ মার্চ ২০২৩
‘আগুনে পুড়ে ছেলেটা কত না কষ্ট পেয়েছে’
নিহত নাজমুলের মা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নজরুল ইসলাম নাজমুল। তার বাড়ি যশোর সদরের ঘুণী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কওসার মোল্লার ছেলে। আকস্মিক মৃত্যুতে নাজমুলের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা ও স্বজনরা।

প্রায় এক বছর আগে সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে প্রবাসে পাড়ি জমান এ রেমিট্যান্স যোদ্ধা। কিন্তু গত সোমবার কর্মস্থল থেকে মক্কাতে ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ঘুণী গ্রামে নাজমুলের বাড়িতে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। পরিবারের একছেলের এই করুণ মৃত্যুর ঘটনায় মা-বাবা, ভাইবোন ও স্ত্রীসহ স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম বইছে। প্রতিবেশিরা কোনো ভাবেই তাদের কান্না থামাতে পারছে না।

Advertisement

নিহত নাজমুলের মা খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমার সোনা বাবাটা কত ভালো ছিলো। কাজ-কর্মের মধ্যে নামাজ পড়তো। তাই গত সোমবার আমারে ফোন করে বলে মা, আমি ১০ দিনের ছুটি পেয়েছি। ওমরা করতে যাবো। তুমি দোয়া কর।’ কিন্তু ছেলেটা আর ওমরা করতে পারলো না। তার আগেই বাস দুর্ঘটনায় ছেলেটা মারা গেল। 

তিনি আরো বলেন, আমি যখন সোমবার তারাবির নামাজ পড়ি, তখনই হঠাৎ করে ফোন আসলো। নামাজের মধ্যেই ভাবলাম, ওই মনে হয় আমার নাজমুল ফোন দিয়েছে। তবে নাজমুল না! তার এক সহকর্মী ফোন দিয়েছে। ফোনটা আমার বড় ছেলে ধরেছে। ধরেই অপর প্রান্ত থেকে কথা আসলো নাজমুলের বাসে আগুন লেগেছে। নাজমুল আর নেই।

তিনি আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘ও আল্লাহ রে...আগুনে পুড়ে ছেলেটা কত না কষ্ট পেয়েছে। মৃত্যুর আগে আমাকে কতবারই না ডেকেছে। ও আল্লাহ আমার নাজমুলরে তুমি ফিরিয়ে দাও।’

নাজমুলের বাবা কওসার মোল্লা বলেন, আমার অন্য সন্তানদের চেয়ে নাজমুল শান্ত প্রকৃতির। বিদেশ যাওয়ার কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছিলো। বউ রেখে সংসারের হাল ধরবে, নিজে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই বিদেশ গিয়েছিলো। আমার সেই ছেলেটা এভাবে চলে যাবে কখনো ভাবেনি।

জানা যায়, নাজমুল হোসেন ৭ ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম। একবছর আগে সৌদি আরব যান তিনি। সৌদি আরবের আভা কামিম শহরের একটি রেস্তোরাঁতে ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে গত ২৭ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে একটি বাসে ওমরাহর উদ্দেশে সৌদি আরবের মক্কা যাওয়ার পথে আবহা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৪৭ জন যাত্রী ছিলো। একটি সেতুর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে মারা যান ২২ জন যাত্রী। নাজমুলের সঙ্গে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: যশোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!