বৃহস্পতিবার বিকেলে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে র্যাব-১৪ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গ্রেফতার রানা জেলার নকলা উপজেলার পূর্ব পাঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার পর থেকেই রানা ৭ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
.png)
জানা যায়, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা প্রবাসী এবং মা মানসিক প্রতিবন্ধী। সেইসুবাদে তার বড় চাচা বাদশা মিয়া তাকে দেখাশুনাসহ লেখাপড়া করাতেন। ওই ছাত্রী স্কুলে যাতায়াতের পথে রানা মিয়া ওরফে অন্তর কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। বিষয়টি বাদশা মিয়া রানার অভিভাকদের জানায়। কিন্তু অভিভাবকরা তা কর্ণপাত না করে রানাকে আরো উৎসাহিত করে। ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অন্তরের ২-৩ জন সহযোগী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ছাত্রীকে সিএনজিতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে।
২০১৬ সালের ১৩ মার্চ স্কুলছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে নকলা থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ আখতারুজ্জামান ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আসামি রানাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম এবং ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
জানা যায়, রানা ঘটনার পর থেকেই ৭ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামানের নেতৃত্বে এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এম এম সবুজ রানার উপস্থিতিতে র্যাবের একটি অভিযানিক দল বুধবার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার তেপিরবাড়ী বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এর পরপরই রানাকে নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়।