ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিকট একটা শব্দ শোনা যায়, এরপরেই বিচ্ছিন্ন হয় মোবাইলের সংযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১১, ৩০ মার্চ ২০২৩
বিকট একটা শব্দ শোনা যায়, এরপরেই বিচ্ছিন্ন হয় মোবাইলের সংযোগ
‘বিকট একটা শব্দ শোনা যায়, এরপরেই বিচ্ছিন্ন হয় সংযোগ’

দুর্ঘটনার দুই-চার মিনিট আগে ভাইকে ফোন দেন শেফায়েত। তখন বাড়ির শিশুদের এবং বাবাকে ভালোভাবে দেখভালের পরামর্শ দিচ্ছিলেন তিনি। এসব কথা বলতে বলতেই হঠাৎ বিকট একটা শব্দ শোনা যায়। এরপরেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সংযোগ। এভাবে কথাগুলো বলছিলেন নিহত শেফায়েতের বড় ভাই জাহেদুল ইসলাম সাগর। 

গত সোমবার ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের আকাবা শারে এলাকায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনের বাড়ি কক্সবাজারে। এর মধ্যে দুজনের বাড়ি মহেশখালীতে। আরেকজন রামু উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 

দুর্ঘটনায় নিহত ২১ বছরের মোহাম্মদ আসিফ ও  ২২ বছরের শেফায়েতুল ইসলাম মহেশখালী উপজেলার ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই।  

Advertisement

এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম আসিফকে হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবার। আসিফের ছোট ভাই হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম মারুফ বলেন, বাবা অসুস্থ। প্রায় দুই বছর আগে মামাদের সহযোগিতায় সৌদি আরবে যান আমার ভাই। সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করতেন তিনি। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আসিফ।  এখন কীভাবে আমাদের সংসার চলবে, জানি না।

উঠানে মুজাহিদুল ইসলাম মারুফ পাশেই চেয়ারে বসে কান্না করছিলেন আসিফের বাবা আহম্মদ উল্লাহ।

এ সময় কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হওয়ার পর আসিফই পরিবারের হাল ধরেছিল। এখন কী হবে,ছেলেকে দেশে আনতে পারব কিনা কিছুই বলতে পারছি না। 

অপরদিকে সৌদি আরবে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত রামুর যুবক মোহাম্মদ হোছাইনের পরিবারেও নেমে এসছে শোকের ছায়া।

নিহত মোহাম্মদ হোছাইন কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ঘোনারপাড়া বাহারকাছা এলাকার কাদের হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে ৭ বছর আগে সৌদিতে পারি জমান হোছাইন। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হোছাইনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে, বুধবার দুপুরে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা দেন মহেশখালীর ইউএনও মোহাম্মদ ইয়াছিন।  

এ সময় তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে আসিফের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সে কারণে তার পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!