ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৭০০ বছরের পুরোনো নিদর্শন ‘আল্লাহর মসজিদ’ 

শামীম আহমেদ, বরিশাল   
প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
৭০০ বছরের পুরোনো নিদর্শন ‘আল্লাহর মসজিদ’ 
কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আল্লাহর মসজিদ

প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রামের ‘আল্লাহর মসজিদ’। তৎকালীন বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন এ মসজিদটি নির্মাণের সময়কাল কিংবা ইতিহাসযুক্ত কোনো শিলালিপি পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে পঞ্চাদশ শতাব্দীতে হযরত খান জাহান আলী (রহ.) আমলে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। এটি দেখতে অনেকটা বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের মতই।

সরেজমিন মসজিদ ঘুরে দেখা গেছে, ৩৮ ফুট করে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে নির্মিত মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ৭ ফুট করে চওড়া। এছাড়াও পাতলা ইট আর চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত মসজিদের পূর্ব দেয়ালে তিনটি, উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে মোট পাঁচটি শিখরাকার সরু উঁচু খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে। প্রবেশপথের খিলানের উপরের প্যানেলে কিছু ফুল ও ডায়মন্ড অলংকরণ করা হয়েছে। 

পাশাপাশি ছাদ বরাবর চারদিকে কার্ণিস রয়েছে, যেগুলো মসজিদের চারকোণে থাকা স্তম্ভের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। নয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের অভ্যন্তরে চারটি পাথরের স্তম্ভ রয়েছে এবং পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে। মাঝখানের মিহরাবটি আকারে বড়। ঐতিহাসিক এ আল্লাহর মসজিদটি এক নজর দেখতে প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্তের পর্যটকদের আগমন ঘটছে। 

Advertisement

ঐতিহাসিক নিদর্শন আল্লাহর মসজিদ

এছাড়াও মনের আশা পূরণ হওয়ায় মানত নিয়ে আসছেন কেউ কেউ। আবার অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এ মসজিদে এসে নফল নামাজ আদায় করছেন। মসজিদের চারপাশে হাঁটার জন্য রয়েছে রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। এছাড়াও মসজিদ কমপ্লেক্সের পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল দীঘি। যেখানে নারী-পুরুষদের গোসল ও ওযুর জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

স্থানীয় প্রবীন বাসিন্দা মসজিদের খাদেম বাবুল ফকির জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ঐতিহাসিক এ মসজিদের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকে শুনে আসছি প্রায় সাতশ’ বছর পূর্বে এ মসজিদ খানা জ্বীন দ্বারা নির্মিত হয়েছে। মসজিদটি নির্মাণের ব্যাপারে বিভিন্ন অলৌকিক কাহিনীর কথা বর্ণিত রয়েছে। আর এ অলৌকিকতার জন্য মসজিদটি  ‘আল্লাহর মসজিদ’ নামে পরিচিত রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা তারেক মাহমুদ বলেন, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পার্শ্বে গৌরনদী উপজেলার কসবা আল্লাহর মসজিদের নকশা, বাহির ও অভ্যন্তরের গঠনশৈলী এবং ছাদের ওপরের গম্বুজ, প্রবেশপথের অবস্থান ও অলংকরণ দেখে হযরত খান জাহান আলী (রহ.) আমলে নির্মিত বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিক নিদর্শন আল্লাহর মসজিদ

তিনি আরো বলেন, মসজিদটিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক পর্যটক মসজিদখানা একনজর দেখার জন্য আসেন। 

মসজিদে মানত নিয়ে আসা মামুন হোসেন জানান, আমি প্রবাসে যাওয়ার নিয়ত করেছি। প্রবাসে গিয়ে যাতে ভালোভাবে পৌঁছাতে পারি এবং আয় রোজগার করতে পারি এজন্য আমার মা আমাকে এখানে নিয়ে আসার জন্য মানত করেছিলেন। তাই মায়ের সঙ্গে এখানে এসেছি। নফল নামাজ আদায় করেছি। মসজিদটি দেখে মনের মধ্যে একটা প্রশান্তি অনুভব করেছি। 

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এর মধ্যে মসজিদটি একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। প্রাচীন স্থাপত্য এ নিদর্শনটি দেখভাল করছে বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!