ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঐতিহ্যবাহী ‘উলানিয়া জমিদার বাড়ি’

শামীম আহমেদ,বরিশাল 
প্রকাশিত: ১০:৪৪, ১৫ এপ্রিল ২০২৩
ঐতিহ্যবাহী ‘উলানিয়া জমিদার বাড়ি’
উলানিয়া জমিদার বাড়ি

জমিদারি ব্যবস্থা উঠে গেছে বহু দিন। কিন্তু বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে আজও রয়েছে নানা জমিদার বাড়ি। বিশাল সে সব অট্টালিকার আনাচ-কানাচে এখনও লেগে আছে ইতিহাসের গন্ধ। সেই সব বাড়ির অনেকগুলিকেই পর্যটকদের জন্য সাজিয়ে তোলা হয়েছে নতুন সাজে। তেমনই বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘উলানিয়া জমিদার বাড়ি’।

এই অঞ্চলের পূর্ববর্তী নাম শাহাবাজপুর এবং বর্তমান নাম মেহেন্দিগঞ্জ তাদের স্মৃতি এবং বিজয় স্মারক। ধারাবাহিকতায় উত্তর শাহাবাজপুর তথা আজকের মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা অঞ্চলে অবস্থান নেয়া হার্মাদ-মগ-বর্গী দস্যুদের বিতাড়িত করতে মুঘলদের স্থাপিত সংগ্রাম কেল্লা (সম্ভবত আগা মেহেদীর সময়ে স্থাপিতঃ বর্তমান ভোলা জেলার অন্তগত রামদাসপুর গ্রামে অবস্থিত সংগ্রাম কেল্লাটি আঠার শতকের মাঝামাঝি সময়ে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়) অবস্থান করেণ শায়েস্তা খাঁর বিশ্বস্থ সেনাপতি শেখ মোহাম্মদ হানিফ। 

উলানিয়া জমিদার বাড়ি

Advertisement

তিনি স্থানীয়দের সহযোতিায় তার সৈনিকদের নিয়ে হার্মাদ-মগ-বর্গীদের আক্রমণ করেন। পরপর আক্রমণে এসব দস্যুরা চিরতরে নিস্তেজ হয়ে যায়। বীরত্বের পুরস্কার স্বরূপ শায়েস্তা খাঁ শেখ মুহাম্মদ হানিফকে সংগ্রাম কেল্লা এবং অঞ্চলের সুবেদার নিয়োগ করেন। শেখ হানিফ সংগ্রাম কেল্লা থেকে একটু দূরে সরে কালিগঞ্জের কাছাকাছি উলুবন আবাদ করে বসতি স্থাপন করে। 

এই উলুবনই পরবর্তীতে উলানিয়া নামে প্রসিদ্ধ হয়। বসতির চৌদিকে নলের হাওলি বা নলের প্রাচীর দিয়ে বাউন্ডারি দেয় হয়। ফলত এখনো উলানিয়া জমিদারের নলের হাওলি কথাটা লোক কথা প্রচলিত আছে। শেখ মুহাম্মদ হানিফের এই বসতি থেকে একটু সামনে সরে তার পরবর্তী প্রজন্ম তাজমহল সদৃশ্য মসজিদ স্থাপন করেন। যা তার পরের প্রজন্মে বারান্দা এবং পুকুরের একপারজোড়া ঘাটলা ইত্যাদি নির্মাণে আরো নান্দনিক হয়ে ওঠে। 

উলানিয়া জমিদার বাড়ি

একই সঙ্গে শেখ মুহাম্মদ হানিফের নলের হাওলির স্থানেও ইট-সুরকির সুবিশাল প্রাচীর গড়ে ওঠে। যতদূর জানা যায় উলানিয়া জমিদার বাড়ির তিন কামরা বেষ্টিত মূল ভবনটা শেখ হানিফের সময়েই নির্মিত। সামনে সু-বিশাল দিঘী, বাড়ির পিছনদিকে এবং পাশে বেশ কয়েকটা পুকুর, শানে বাঁধানো ঘাট। মূল বাড়ির পাশে কাচারি বাড়ির সামনে ডাকবাংলা মূল বাড়িতে ঢুকতে দ্বীতল প্রবেশ পথ। সবমিলিয়ে এই বাড়িটা ঘিরে এই অঞ্চলে প্রচলিত আছে নানান রকম কিংবদন্তী লোককথা। 

স্থাপনাটি বর্তমান সরকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মাধ্যমে সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করে প্রাচীন এই ঐতিহ্য সমুন্নত রাখা হোক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: বরিশাল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!