‘পরনের শার্ট আর খারু দেখেই ছেলেকে চিনেছি’
রোববার তখন বিকেল। ওই সময় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে ঢুকেন নিহতের স্বজনরা। মর্গে ছেলে সাইফুল ইসলামের মরদেহ খুঁজছিলেন মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউপির মিঠেছড়ি এলাকার সাহাব উদ্দিন। একপর্যায়ে পরনের শার্ট আর খারু দেখেই ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি।
এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ৭ এপ্রিল ইফতারের পর বাড়ি থেকে বের হয় সাইফুল। তখন তার গায়ে সাদা স্ট্রাইপের ফুলহাতা শার্ট ছিল। সে হাতে ও পায়ে রাবারের খারু (চুড়ির মত) পরত। ব্যাথা কমানোর জন্য। আর আজ সেই শার্ট আর খারু দেখেই ছেলেকে চিনেছি।
এদিকে ভাই শামসুল আলমের মরদেহ শনাক্ত করতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে এসেছেন হাশেম বানু নামে এক নারী। তার দাবি, পরনের কাপড় দেখে তিনি ভাইকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তার বাড়ি মহেশখালি। রোববার দুপুরে নাজিরারটেক পয়েন্টে ভাসমান যে ট্রলার থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয় তিনি সেটির মালিক বলে জানান হাশেম বানু।
.png)
জানা যায়, রোববার রাত পর্যন্ত মর্গে ঢুকে আটজনের মরদেহ শনাক্তের দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। তাদের সবার বাড়ি মহেশখালীতে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।
অন্যদিকে চকরিয়ার উপজেলার কোনাখালী উপজেলার জঙ্গলকাঁটা গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে মো. তারেক মিয়ার মরদেহ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন তার মা জোছনা বেগম। তিনি জানান, তার ছেলের জন্মগতভাবে ডান হাতের চারটি আঙ্গুল একসঙ্গে লাগানো এবং কনিষ্ঠা নেই। সেই দেখে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেছেন তিনি।
জোছনা বেগম বলেন, আমার ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। গত ৭ এপ্রিল ইফতারির পর সে বটতলি স্টেশনে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই।
স্বজনরা জানান, ৭ এপ্রিল মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ছিলেন তারা। এর মধ্যে পাঁচজন কিশোর বলে জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রায় ৯৫ শতাংশ গলে গেছে। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পরই মরদেহ চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রসঙ্গত,রোববার দুপুর ১টার দিকে কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে নাজিরারটেক পয়েন্টে ভেসে আসা একটি ট্রলার থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।