ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি ১৭২৮ হেক্টর জমি 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০৭, ২৭ এপ্রিল ২০২৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি ১৭২৮ হেক্টর জমি 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন তাপদাহের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে হয়েছে বৃষ্টি। প্রকৃতি ও প্রাণিকূলে প্রশান্তি এনে দেয়া এ বৃষ্টি। তবে বেশ কিছু এলাকায় হওয়া শিলা বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে মাঠ ফসলের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিভাগের তথ্য অনুয়ায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত থেমে থেমে জেলাজুড়ে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, তার পরিমাণ ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার। এ সময়ে জেলার বেশ কিছু এলাকায় কিছু সময়ের জন্য হয় শিলা বৃষ্টিও। আর এ শিলা বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতি করেছে মাঠে থাকা বোরো ধানের। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও আর শিলা পড়েনি। ফলে অনেকটায় আশাবাদী হয়েছেন আমচাষিরা। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউপির বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, তাদের ১২ বিঘা জমির ধান আর কিছুদিন পরই ঘরে তুলতেন। শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ধান অনেকটা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ১২ বিঘা জমি থেকে শেষ পর্যন্ত যৎ সামান্য ধান ঘরে তুলা যাবে। ধানের শীষ সব ঝরে গেছে।  

Advertisement

অন্যদিকে আম চাষিরা বলছেন, তাপদাহে যে পরিমাণ মাটি শুকিয়ে আছে, সেই তুলনায় পানি হয়েছে খুবই কম, গাছের পাতা কিছুটা ভিজেছে। আরো পানি দরকার। 

ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ও শিবগঞ্জের আম উদ্যোক্তা আহসান হাবিব বলেন, বুধবার বিকেলে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, তাতে গাছের পাতা ভিজেছে। আরো বড় বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। বৃষ্টিপাতের পরেও সেচ কন্টিনিউ করতে হচ্ছে। এখনও বাগানে সেচ চালু রেখেছি। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, বৃষ্টিপাত আমের জন্য উপকার বয়ে আনবে, তবে দীর্ঘদিনের রুক্ষতার পর এটুকু বৃষ্টিপাত কিছুই হবে না। বৃষ্টিতে গাছ ধুয়ে গাছ বেয়ে গোড়ায় মাটিতে পানি আসতে হবে, তাহলে আমের জন্য কার্যকর হবে। দুদিন যে বৃষ্টি হয়েছে তা সামান্যই। তারপরও কিছুটা আমের উপকার হয়েছে, অন্য ফসলেরও বৃষ্টিতে ক্ষতি যে হবে তেমনটা নয়। তবে যেসব এলাকায় শিলা বৃষ্টি হয়েছে, সেখানে আম ও মাঠ ফসল দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. পলাশ সরকার বলেন, বৃষ্টিপাত আমের জন্য সহায়ক হলেও, কিছু এলাকায় হওয়া শিলায় কিছুটা ক্ষতি হবে, তবে তা খুব বেশি নয়, পাকা ধানেই কিছুটা বেশি ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়ে আমরা মাঠ থেকে যে প্রাথমিক প্রতিবেদন পেয়েছি, তাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৭২৮ হেক্টর জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে, এরমধ্যে বোরো ধান আছে ১ হাজার ১৪৫ হেক্টর, আম ৩৯৬ হেক্টর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!