লক্ষ্মীপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্টাফ কোয়ার্টারে মমতাজ বেগমকে হত্যার দায়ে তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম রকিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞেসাবাদে পুলিশকে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন রকি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ। এর আগে দুপুরে পৌরসভার মজুপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
তিনি জানান, গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন শেষে গত ২৪ এপ্রিল মমতাজ বেগম কোয়ার্টারে আসেন। সেদিন রাতে ছোট ছেলে রকি ধারালো ছুরি দিয়ে মাকে হত্যা করেন। লাশ টুকরো টুকরো করে সেখানে রেখেই পালিয়ে যান রকি।
তিনি আরো বলেন, মাকে হত্যার আগে একটি কাগজে ছবি এঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রকি। হত্যার পর বড় ছেলে বাপ্পী বাড়িতে এসে দরজায় রক্ত দেখে ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পেছনের দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকে পুলিশ। ঢুকতেই একটি পাটি দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মমতাজের বেগমের শরীরের কাটা অংশ দেখতে পায়।
এ ঘটনায় গত ২৫ এপ্রিল নিহত মমতাজের মেয়ে রোজি আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সদর মডলে থানায় মামলা করেন। পরে সিসি টিভি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রকিকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞেসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন তিনি।
জানা যায়, নিহত মমতাজ বেগম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউপির মৃত আব্দুল মতিনের স্ত্রী। তার স্বামী সড়ক বিভাগে চাকরি করতেন। স্বামী মতিন মারা যাওয়ার পর থেকেই মমতাজ তার দুই ছেলে বাপ্পি ও রকিকে নিয়ে সড়ক বিভাগের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছেন। তার বড় ছেলে বাপ্পি বর্তমানে মাস্টার রুলে সড়ক বিভাগে কাজ করছেন।