পুলিশ জানায়, ক্রমাগত পারিবারিক কলহ ও প্রথম স্ত্রীর প্ররোচনায় দ্বিতীয় স্ত্রী মনিরাকে হত্যা করেন স্বামী সাহেব আলী।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এ তথ্য জানান।
.png)
পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৩ এপ্রিল ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মানিকনগর সেতুর পাশে রতনের পুকুর পাড় থেকে মনিরার মরদেহ উদ্ধার করে নগরকান্দা পুলিশ। তার বাড়ি মনিরা নীলফামারীর ডোমার উপজেলায়। তিনি ফরিদপুর সদরের একটি জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিন বছর আগে তার সঙ্গে নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রামের সাহেব আলীর বিয়ে হয়। তবে ১২ বছর আগে সাহেব আলী জ্যোৎস্না বেগমকে বিয়ে করেন।
তিনি আরো বলেন, জ্যোৎস্নার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। জ্যোৎস্নার সঙ্গে সাহেব আলীর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে এ কথা বলে তিনি মনিরাকে বিয়ে করেন। কিন্তু সাহেব আলীর সঙ্গে মনিরার পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তিনি মনিরাকে নানা বিষয়ে সন্দেহ করতেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিদেশ থেকে আসার পর সম্প্রতি তার প্রথম স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমের সঙ্গে সাহেব আলীর নতুন করে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন বলেন, এ অবস্থায় পারিবারিক কলহ এবং প্রথম স্ত্রীর প্ররোচনায় সাহেব আলী তার স্ত্রী মনিরাকে গত ২২ এপ্রিল বিকেলে বেড়াতে বের হওয়ার নাম করে তালমা ইউনিয়নে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মানিকনগর সেতুর পাশে রতনের পুকুর পাড়ে নিয়ে ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
জানা যায়, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুক্রবার (৫ মে) ভোরে ঢাকার দোহার থানা এলাকা থেকে সাহেব আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কহলদিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাহেব আলীর বড় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।