শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. আরিফ হোসেন।
গ্রেফতার হযরত আলী মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার ফারিরচর গ্রামের নুরুল হক বেপারীর ছেলে। বর্তমানে হযরত আলী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলায় বসবাস করে আসছিল। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক।
.png)
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ২০০১ সালে হযরত আলী একই গ্রামের মন্নাফ বেপারীর মেয়ে রোকসানা আক্তারকে প্রেম করে বিয়ে করেন। এই বিয়ে হযরত আলীর পরিবার মেনে নেয় না। ওই সময় তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। কিছুদিন পর থেকেই হযরত আলী, তার বাবা নুরুল হক বেপারী ও মা উজালা যৌতুকের দাবিতে রোকসানাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ভিকটিমের বাবা যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করে। ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হযরত আলী তার মা-বাবাকে নিয়ে ভিকটিমের বাবার বাড়িতে হাজির হয়ে যৌতুকের টাকা দাবি করে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে যৌতুকের টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাত ১১ টার দিকে হযরত আলী ও তার মা-বাবা মিলে রোকসানাকে হত্যা করে ভিকটিমের চাচা আব্দুল ওহাবের ঘরের বারান্দায় ফাঁস দিয়ে বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মন্নাফ বেপারী বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় হযরত আলীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ হযরতকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলে চার বছর জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পায়। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্ত শেষে হযরত আলীর বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করেন। বাকি চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রোকসানাকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন হযরত আলী বেপারীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামি হযরত আলী ৩ বছরের বেশি সময় ধরে পলাতক ছিলেন।
আরিফ হোসেন জানান, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হযরত আলী গ্রেফতার এড়ানোর জন্য ২০২০ সালের শেষের দিকে গাজীপুর চলে আসেন। গত ৩ বছর ধরে হযরত আলী নাম পরিবর্তন করে মো. সজীব আহম্মেদ নাম ব্যবহার করে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তিনি গাজীপুরে লোহার গ্যারেজের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। আজ দুপুরে অভিযান চালিয়ে সাভার থানা রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে মানিকগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’