ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে শুনলেন তিনি মারা গেছেন

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪০, ৭ মে ২০২৩
বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে শুনলেন তিনি মারা গেছেন
ইউপি সচিবের কারসাজিতে হয়রানীর শিকার রওশন আরা।ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভোলার লালমোহনে রওশন আরা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউপির সচিব জহর লাল দাস।

জানা যায়, একই ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালাচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেনের স্ত্রী রওশন আরা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছিলেন। ওই ভাতার টাকা নগদ অ্যাকাউন্টে পেতেন তিনি। তবে হঠাৎ করেই ভাতার টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায় রওশন আরার। এরপর তিনি বিষয়টি জানতে উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। 

সেখান থেকে রওশন আরাকে জানানো হয়; ২০২২ সালের ২ মার্চ বার্ধক্যজনিত কারণে ৭৮ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। যা ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুর নিবন্ধনকরণ রেজিস্টারে ২০২২ সালের ২৮ নম্বর ক্রমিকে নিবন্ধিত রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এমন একটি সনদ দেওয়ায় ভাতাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Advertisement

অভিযোগ করে রওশন আরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাতার টাকা পাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে কয়েক মাস ধরে ওই টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমাজ সেবা অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে শুনতে পারি আমাকে মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জহর লাল দাস একটি মৃত্যু সনদ দিয়েছেন। আমার বদলে অন্য একজনকে অর্ন্তভুক্ত করার আবেদন করেন। এজন্য আমি ভাতা পাচ্ছি না। জীবত থাকার পরেও সমাজ সেবা অফিসে গিয়ে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বিস্মিত হই। আমাকে মৃত বানানোর এই কারসাজি করায় জহর লালের বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে ধলীগৌরনগর ইউপির সচিব জহর লাল দাস জানান, প্রথমবারের মতো এমন ভুল করেছি। জানার পরে ওই সনদটি বাতিল করা হয়েছে। সামনের দিকে সর্তকতার সঙ্গে কাজ করবো।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, আমরা বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে ওই বৃদ্ধার ভাতা পুনরায় চালু করে দিয়েছি। শিগগিরই তিনি তার ভাতার টাকা পাবেন। 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!