ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নরসিংদীর লটকন এখন দেশের বাইরে 

শরীফ ইকবাল রাসেল, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১৪:৪২, ১০ মে ২০২৩
নরসিংদীর লটকন এখন দেশের বাইরে 
নরসিংদীর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একসময়ের অপ্রচলিত ফল লটকন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একসময়ের অপ্রচলিত ফল লটকন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশের মাটিতে অর্থনৈতিক ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এর চাষাবাদ। 

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এক হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে ২৫ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন লকটনের ফলন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ। আর উৎপাদিত এ লটকন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮০ কোটি টাকা।

নরসিংদীর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একসময়ের অপ্রচলিত ফল লটকন।

Advertisement

জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বেলাবো উপজেলার লাখপুর গ্রামে অপ্রচলিত ফল লটকনের আবাদ শুরু হয়। এরপর থেকে বেলাব ও শিবপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লালমাটির এলাকায় লটকন চাষের প্রসার শুরু হয়। দিন দিন মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ লটকনের চাহিদা বাজারে বাড়তে থাকে। এতে ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই লটকনের চাষাবাদ বাড়ছে।

বিশেষ করে বেলাব ও শিবপুর উপজেলায় গত ৩০ বছরে বাণিজ্যিকভাবে লটকনের প্রসার ঘটেছে। দুই উপজেলার প্রায় প্রতিটি পরিবারের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এই লটকন। লটকন চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর পাশাপাশি বেকার সমস্যা সমাধানের পথও খুঁজে পেয়েছেন অনেকে।

নরসিংদীর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একসময়ের অপ্রচলিত ফল লটকন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শিবপুর ও বেলাবো উপজেলার লাল রঙের উঁচু মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এখানকার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এছাড়া রায়পুরা ও মনোহরদী উপজেলার বেশ কিছু এলাকার মাটিও লটকন চাষের জন্য উপযোগী। গাছের গোড়া থেকে শুরু করে প্রধান কাণ্ডগুলোতে ছড়ায় ছড়ায় লটকনের ফলন হয়।

নরসিংদীর লটকন খেতে সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় এর কদর বেড়েছে। এছাড়া ২০০৮ সাল থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে লটকন। মৌসুমী এ ফলের বাজার ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসছে লটকনের হাট। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারগণ এসে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে হাত বদল হয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে এসব লটকন রফতানি হচ্ছে বিদেশের বাজারগুলোতে। অনেক ব্যবসায়ীরা সরাসরি জমি থেকে লটকন কিনে সরবরাহ করছেন দেশ-বিদেশের বাজারে।

নরসিংদীর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একসময়ের অপ্রচলিত ফল লটকন।

শিবপুর জয়নগর গ্রামের সুমন দাস জানান, কম খরচে অধিক লাভজনক ফসলের মধ্যে লটকন অন্যতম। এই ফলের বাগান শুরু করতে প্রথমে খরচ বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। সে তুলনায় লাভ বেশি হয়।

একই গ্রামের কলিমউদ্দিন বলেন, স্থানীয় বাজার ছাড়াও লটকন গাছে ধরার পর জমিতেই পাইকারি বিক্রি করে দেওয়া যায়। পাইকাররা বাগান কিনে দেশে বিদেশের বাজারে পাঠিয়ে থাকেন।

নরসিংদীর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একসময়ের অপ্রচলিত ফল লটকন।

শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সাদেক জানান, লটকন চাষ বৃদ্ধিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চারা উৎপাদন করাসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। যার ফলে এর ফলন ভালো হয়। আর ভালো হয়। আর এই এলাকার লটকন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রফতানি হওয়ায় লটকনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: নরসিংদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!