ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
বিনা-২৫ ধানের উদ্ভাবক ড. সাকিনা খানম

মাগুরায় সেই সরু চালের সফল উৎপাদন

লিটন ঘোষ জয়, মাগুরা
প্রকাশিত: ২১:৫৫, ১০ মে ২০২৩
মাগুরায় সেই সরু চালের সফল উৎপাদন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বোরো ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরা জেলার কৃষকরা। এবার জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। সেচ-সারসহ সব খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ থাকবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুসে মাগুরায় ৩৮ হাজার ৪৩৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের নতুন উদ্ভাবিত বিনা-২৫ ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় এক হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল এই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল দেশে প্রচলিত চালের মধ্যে সবচেয়ে সরু। 

মাগুরা সদরের মঘি, আঠারোখাদা, ছোটব্রিজ, আবালপুর, ইছাখাদা, আলাইপুর, বেলনগর, রামনগর, দুর্গাপুর এবং শালিখা উপজেলা গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বৈখালি, মনোখালি, গজনগড়, কাটিগ্রাম, পুলুম, মধুখালি, সোনাকুড় ও ঘোষগাতি গ্রামের মাঠে মাঠে পড়েছে ধান কাটার ধুম। কোথাও কোথাও ধান মাড়াই এবং ঘরে তোলার কাজে গৃহিণীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।

Advertisement

সদর উপজেলার মঘি গ্রামের বুধইরপাড়া ব্লকের কৃষক আবুল কালাম জানান, এ বছর তিনি প্রায় সাড়ে তিন একর জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। এরমধ্যে ৫০ শতক জমিতে করেছেন বিনা-২৫ জাতের আবাদ। এই জাতের ধানগাছ প্রচলিত অন্যান্য ধান গাছের চেয়ে উচ্চতায় বেশি হয়। ধানের ছড়াও বেশ বড়। এতে ফলনও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া এ জাতের ধান আবাদে সার কীটনাশক কম লেগেছে। ফলে এটি কৃষকের জন্য বেশ সাশ্রয়ী।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শালিখা উপজেলার বৈখালি গ্রামের কৃষক অরূপ কুমার বিশ্বাস জানান, এ মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। এরই মধ্যে ব্রি-৮৯ ও ব্রি-৯২ জাতের এক বিঘা জমির ধান কেটেছেন। ধানের বাম্পার ফলনের আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

উচ্চ ফলনশীল বিনা-২৫ জাতের ধানের উদ্ভাবক বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাকিনা খানম বলেন, বাংলাদেশে সরু চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সবই আমদানিনির্ভর। এ অবস্থায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং বাইরে রফতানির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের একদল বিজ্ঞানী সরু চালের ধান নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর নানা গবেষণা শেষে বিনা-২৫ জাতের জাতটি অবমুক্ত করা হয়। জাতটি আমার নিজের হাত ধরে অবমুক্ত হওয়ায় নিজেও গর্বিত বোধ করছি। জাতটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির। পূর্বের পরীক্ষিত বিনা-৫০ জাতের ধানের চেয়ে এর বীজ অধিক সরু। ফলনও বেশি।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুফি মো. রফিকুজ্জামান জানান, কৃষক ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় আগের চেয়ে চাষ বেড়েছে। এবার আবহাওয়া বেশ বৈরি ছিল। প্রচণ্ড খরার কারণে কৃষকদের মাঝেমধ্যেই ধানক্ষেতে সেচ দিতে হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের তৎপরতা ও পরামর্শে চলতি মৌসুমেও বোরো ধান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জেলায় এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি- ৮৯ ও ৯২ ধানের পাশাপাশি বিনা-২৫ ধানের চাষের কারণে ফলন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনা-২৫ ধানের বৈশিষ্ট্য হলো রোগ বালাই সহিষ্ণু, স্বল্প জীবনকাল। এছাড়া এই জাতের ধানের বীজ কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষণ সম্ভব হওয়ায় নতুন উদ্ভাবিত জাতটি সারাদেশে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কৃষি বিভাগ। বিনা-২৫ ধান একদিন সরু চালের বাজার দখল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: ধান মাগুরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!