মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন গৃহকর্মী তানিয়া আক্তার ও তার কথিত প্রেমিক ইউসুফ খান মামুন। মামুন খানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশায়।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ রাতে সিলেট নগরের মীরাবাজার খারপাড়া ‘মিতালী ১৫/জে’ বাসার নিচতলার একটি ফ্লাটে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলামকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন ১ এপ্রিল বাসা থেকে মা ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে আহত অবস্থায় ৫ বছরের ছোট শিশু রাইসাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারীরা রাইসাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গিয়েছিল। নিহত রোকেয়া সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর কলকলি গ্রামের হেলাল মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জাকির হোসেন অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর ওই বছরের ১০ এপ্রিল কুমিল্লা থেকে রোকেয়ার বাসার গৃহকর্মী তানিয়া আক্তার ও তার কথিত প্রেমিক ইউসুফ খান মামুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা উভয়েই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এছাড়াও ঘটনাস্থলের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নিহত রোকেয়া বেগমের শিশু মেয়ে রাইসার জবানবন্দিও রেকর্ড করেন আদালত। আদালতে রাইসা ও আসামিদের জবানবন্দি হুবহু মিলে যায়।
.png)
আদালতের পিপি মোহাম্মদ জুবায়ের বখত বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। ২০১৯ সালের ১৯ মে তদন্ত শেষে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআই’র পরিদর্শক দেওয়ান আবুল হোসেন। ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি আদালত চার্জ গঠন করে বিচারকার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানিতে ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।