মৃত তিনজন হলেন উপজেলার পলতি গ্রামের আব্দুল কাদের-মহব্বতের নেছা দম্পতির ছেলে ফার্নিচার দোকান ব্যবসায়ী মো. ইউছুফ। মতৈন গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব-শরীফা বেগম দম্পতির ছেলে দোকান কর্মচারী মো. রাসেল এবং অপরজন হলেন পলতি গ্রামের মীর আহাম্মদ-পেয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে।
সোমবার রাত ৩টার দিকে আবুধাবির স্থানীয় সময় দেশটির সারজা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
.png)
সেনবাগ থানার ওসি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারি ও নিহত ফার্নিচার দোকান ব্যবসায়ীর বড়ভাই মো. রসুল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইউছুফের বড় ভাই মো. রসুল বলেন, ছোট ভাই দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আবুধাবিতে প্রবাস জীবন যাপন করে আসছিলেন। গত দুই বছর আগে তিনি আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সারজা এলাকায় একটি ফার্নিসার (সোফা তৈরি- বিক্রির ব্যবসা) শুরু করেন। পাঁচ বছর আগে তিনি সর্বশেষ বাড়ি এসেছিলেন। তার সংসারে স্ত্রী নুরনাহার বেগম, মাদরাসা শিক্ষার্থী বড় ছেল মাইনুল ইসলাম মিলন ও ৫ম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান সিফাত রয়েছেন।
জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে ভেতরে ইউছুফ দোকান কর্মচারী রাসেল ও বেড়াতে আসা মো. তারেক হোসেন ঘুমিয়ে পড়েন। আবুধাবীর স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে দোকানে আগুনের সূত্রপাত হলে দোকানের ভেতরে ঘুমের মধ্যেই তিনজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। মঙ্গলবার সকালে আবুধাবিতে বসবাসরত ইউছুফের স্বজন আবুল বাশার ও আনোয়ার হোসেন মোবাইল ফোনে কল করে তাদের মৃত্যুর খবর দেন।
মৃত্যুর সংবাদ শুনে তিন পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়। পরিবারগুলোর দাবি, নিহতদের লাশগুলো যেন দেশে পাঠানো হয়। তাহলে শেষবারের মতো তাদেরকে একবার দেখতে পাবেন তারা।
ওসি মো. ইক্ববাল হোসেন পাটোয়ারি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত প্রবাসীদের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছে পুলিশ।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহাবুর রহমান বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে মৃতদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।