হিট স্ট্রোকে ২ চা শ্রমিকের মৃত্যু
গত কয়েক দিন ধরে গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। দাবদাহে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগানগুলোতে চা শ্রমিকদের ২ থেকে ৩ শিফটে কাজ করাচ্ছেন বাগান মালিকরা। উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানে হিটস্ট্রোকে দুজন নারী চা শ্রমিক মারা গেছেন। এছাড়া ১০-১২ জন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতরা হলেন- ইন্দ্রা দ্বিবেদী ও সঞ্জিতা রবিদাস।
জানা যায়, চা বাগানের শ্রমিকরা উঁচু টিলায় কাজ করার ফলে সূর্যের তাপ সরাসরি এসে মাথার উপরে পড়ে। বুধবার রাতে কমলগঞ্জের ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগানের ফাঁড়ি দেওছড়া বাগানে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ইন্দ্রা দ্বিবেদী ও সঞ্জিতা রবিদাস নামে দুজন নারী চা শ্রমিক মারা যান। তারা তিন শিফটে কাজ করে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে আসেন। পরে রাতে হাসপাতালে নেয়া হলে তাদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এছাড়া দেওছড়া চা বাগানে চারজন, শমশেরনগর চা বাগানে তিনজন, চাতলাপুর চা বাগানের একজন, আলীনগর চা বাগানে দুজনসহ বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকেরা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
চা শ্রমিক নেতা শিতারাম বিন বলেন, তীব্র গরমে দুই চা শ্রমিক হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়াও অনেক আক্রান্ত হয়েছেন। এই গরমের মধ্যেও চা শ্রমিকদের একাধিক শিফটে কাজ করানো হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ হচ্ছেন অনেকে।
.png)
শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। শ্রমিকরা যদি সকালে কাজে আসে তাতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূইয়া বলেন, হিট স্টোকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষ সচেতন নয়। হিট স্টোকে হলে দ্রুত সময়ে বিপদ ঘটতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে গরম থেকে সতর্ক থাকতে হবে।