‘লাম্পি স্কিন’ রোগে মৃত্যুহার কম হলেও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে দুগ্ধ ও চামড়া শিল্পে। এ রোগে আক্রান্ত হলে পশুর চামড়া অনেকটাই অকার্যকর হয়ে যায়। আবার গাভী আক্রান্ত হলে দুধ উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে আসে। দেশের দুধ উৎপাদনকারী খামারগুলোয় এ রোগের প্রভাব পড়ছে। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা।
সম্প্রতি উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের আশুজিয়া গ্রামের অত্যন্ত দরিদ্র জেলে সম্প্রদায়ের মনোরঞ্জন দাসের ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ১টি গাভী, রহিছ উদ্দিনের ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১টি ষাঁড় বাছুর, নগুয়া গ্রামের গোলাপ মিয়ার ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ১টি ষাঁড় বাছুর, বলাইশিমুল গ্রামের পিনু মিয়ার একটি বকনা বাছুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এছাড়া নিতাই দাস, আবু চানসহ বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় গরুর মালিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
.png)
বলাইশিমুল গ্রামের আতিকুর রহমান চান্নু জানান, একরাতে এলাকার ৫টি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় দরিদ্র মানুষগুলো ভেঙে পড়েছেন। এর আগেও এলাকায় এই রোগে আরো কয়েকটি গরু মারা গেছে। কয়েকটি ইউনিয়নে শতাধিক গরু আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভাস্কর চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘লাম্পি স্কিন’ নামের এই রোগটি আফ্রিকার জাম্বিয়ায় দেখা দেয় ১৯২৯ সালে। ১৯৪৩-১৯৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বত্র গবাদি পশুর শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কেন্দুয়া উপজেলায় সর্বত্র এ রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা এখানে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০টি ‘লাম্পি স্কিন’ নিয়ে আসা গরুর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি ও পরামর্শ দিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, ‘লাম্পি স্কিন’ (এলএসডি) একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এলএসডি আক্রান্ত গরুর প্রথমে জ্বর হয় এবং খাওয়ার রুচি কমে যায়। পশুর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চামড়ায় গুটি গুটি আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এ রোগটি মূলত মশা-মাছির মাধ্যমে রোগাক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ গরুতে ছড়ায়। এতে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। একটু সচেতন হলেই এই রোগ নিরাময় সম্ভব।