বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
সাজেক ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার বনবিহারী চাকমা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সাজেকের লংথিয়ান পাড়া, অরুণ পাড়া, কাইজা পাড়া, রায়না পাড়া ও শিয়ালদহ এলাকাসহ আশপাশের বেশকিছু এলাকায় ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এলাকায় আশপাশে কোনো হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় স্থানীয় তান্ত্রিক দ্বারা চিকিৎসা নিতে থাকেন স্থানীয়রা। এলাকায় যাতায়াতের কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পায়ে হেঁটে এতো দূর থেকে মাচালং ও উপজেলা সদর হাসপাতালে রোগী পাঠানো সম্ভব নয়।
.png)
সাজেক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার জোপুইথাং ত্রিপুরা জানান, শিয়ালদহ এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন ডায়রিয়া রোগী রয়েছেন। মূলত ছড়ার পানি থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে। ২০১৬ সালে এখানে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়।
বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অরবিন্দু চাকমা জানান, এরমধ্যে ৪ সদস্যদের একটি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সাজেকের কংলাক পাড়া থেকে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে একদিন লাগবে। মেডিকেল টিমের সদস্যরা পৌঁছালে আরো বিস্তারিত জানতে পারবো।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের লংথিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে দুইজন মারা গেছেন। আরো ৫০ জনেরও অধিক আক্রান্ত রয়েছে এ রোগে। একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। এলাকাটি বেশ দুর্গম হওয়ায় আগামীকাল সকালে একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।
তিনি আরো জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি পাঠানো হয়েছে। আশা করি সন্ধ্যার মধ্যে সেগুলো পেয়ে যাবে।