পরবর্তীতে নানা সময়ে ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা বুঝিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় জিনের বাদশা। কথিত এমন দুইজন জিনের বাদশাকে গ্রেফতার করেছে পাবনার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী।
.png)
এর আগে, বুধবার (১৪ জুন) রাতে পাবনা, গাইবান্ধা এবং বগুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলার মিরুপাড়া এলাকার মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৫০) এবং একই এলাকার মৃত সাফায়াতুল্লাহ প্রামানিকের ছেলে আবু মিয়া (৩৮)।
ভুক্তভোগী আরব আলী প্রামানিক (৬৫) পাবনার চাটমোহর উপজেলার সারোরা পুর্বপাড়া গ্রামের মৃত আছের উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী বলেন, প্রায় ৬ মাস পূর্বে আরব আলী চাটমোহর নতুন বাজারে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে গভীর রাতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে তাকে আল্লাহর নামে শপথ করান। এ সময় ধর্মীয়ভাবে ইসলামের নানা বিষয়ে মিথ্যা বুঝিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব কথা কাউকে জানালে তার পরিবারের যেকোনো সদস্য মারা যাবে বলে ভয় দেখায়ে বিষয়টি তাকে গোপন রাখতে বাধ্য করে।
পরবর্তীতে ১৩ জুন পুনরায় কল করে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে জায়নামাজ কেনার জন্য ২১ হাজার টাকা দাবি করে। এরপর ভুক্তভোগী চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগের পর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং মোবাইলের সিডিআর পর্যালোচনা করে পাবনা ডিবির একটি চৌকস টিম পাবনা, গাইবান্ধা এবং বগুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত জিনের বাদশা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল এবং যেসব বিকাশ নম্বরে টাকা নিয়েছে সেগুলোসহ সব মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।
তারা দীর্ঘদিন যাবত জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে নিরহ সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মুসলমাদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে, গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ও জিন দ্বারা প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিতো বলেও জানান পুলিশ সুপার। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।