ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১১, ১৯ জুন ২০২৩
চাঁদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন
ফাইল ফটো

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার আমিনুল ইসলাম আরিফ হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে চাঁদপুর জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. মহসিনুল হক এ রায় দেন। রায়ের সময় তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আরেক আসামি পলাতক রয়েছেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সাহিদা বেগম, ফরিদগঞ্জ বালিথুবা গ্রামের ওমর শরীফ, একই উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম ও মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি থানার হাসাইল এলাকার সাইফুল ইসলাম।

Advertisement

হত্যার শিকার আমিনুল ইসলাম আরিফ লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের মহাদেবপুর গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম আরিফের পরিবার লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা হলেও রাজধানীর খিলগাঁও থানার উত্তর গোরান সিপাহীবাগ ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একই এলাকার বাসিন্দা জনৈক ইউনুছের মেয়ে পিংকিকে গোপনে আদালতে মাধ্যমে বিয়ে করেন আরিফ।

এ ঘটনায় উভয় পরিবারে জানাজানি হলে পিংকির মা সাহিদা বেগম আরিফকে তুলে নিয়ে স্থানীয় ভাড়া করার লোকজন দিয়ে গোপন আস্তানায় রাখেন। আরিফ এ সংবাদ তার আপন খালা নিলা বেগমকে জানান। নিলা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাহিদা বেগমকে পান। সাহিদা বেগমকে বুঝিয়ে সেখান থেকে আরিফকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে উভয় পরিবারে শত্রুতা চলতে থাকে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিংকি পরিবার অর্থাৎ সাহিদা বেগম, নাছিমা বেগম ও নাছির পরামর্শ করে পরিকল্পিতভাবে ২০০৮ সালের ৪ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওমর শরীফ, কামরুল ও সাইফুল আরিফদের বাসায় গিয়ে তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাবে বলে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। কিন্তু চট্টগ্রাম না নিয়ে তারা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বালিথুবা গ্রামে ওমর শরীফের বাড়িতে এনে আরিফকে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহত আরিফের চাচা তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী বাদী হয়ে পিংকির মা সাহিদা বেগম, ওমর শরীফ, কামরুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, নাছিমা বেগম ও নাছিরকে আসামি করে ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ফরিদগঞ্জ থানার তৎকালীন সময়ের এসআই মোহাম্মদ হোসেন সরকার।

মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী রনজিত রায় চৌধুরী জানান, মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর চলাকালীন সময়ে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন। আসামি ওমর শরীফ পলাতক রয়েছেন। অন্য তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!