ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মেয়েকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, ১৫ ঘণ্টা পর ভেসে উঠল বাবার মরদেহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২৮, ২৫ জুন ২০২৩
মেয়েকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, ১৫ ঘণ্টা পর ভেসে উঠল বাবার মরদেহ
মো. ইমরান

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা। স্ত্রী ও চার বছরের মেয়েকে নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান ইমরান। হঠাৎ নদীতে পড়ে যায় তার মেয়ে। মেয়ে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন স্বামী-স্ত্রী দুজনই। স্থানীয়রা এ দৃশ্য দেখে ছুটে গিয়ে মা-মেয়েকে উদ্ধার করতে পারলেও নিখোঁজ হন ইমরান। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে জানালে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালায়। কিন্তু ইমরানকে খুঁজে না পেয়ে উদ্ধারকাজ সাময়িক বন্ধ রাখে। পরদিন রোববার সকাল ৯টার দিকে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর ইমরানের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিসাখালী গ্রামে। মৃত মো. ইমরান বরিশাল নিবাসী আহসান উল্লাহর ছেলে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দশমিনা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার। 

Advertisement

জানা যায়, গত শুক্রবার স্ত্রী-সন্তানসহ দশমিনার আলীপুর ইউপির খলিসাখলী গ্রামে তার নানা বাড়িতে বেড়াতে যান ইমরান। শনিবার বিকেলে স্ত্রী ও চার বছরের মেয়েকে নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরতে বের হন তিনি। একপর্যায়ে তাদের মেয়ে নদীতে পড়ে যায়। মেয়ে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন স্বামী-স্ত্রী দুজনই। স্থানীয়রা এ দৃশ্য দেখে ছুটে গিয়ে মা-মেয়েকে উদ্ধার করতে পারলেও নিখোঁজ হন ইমরান।

পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে জানালে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালায়। কিন্তু ইমরানকে খুঁজে না পেয়ে উদ্ধারকাজ সাময়িক বন্ধ রাখে। পরদিন রোববার সকাল ৯টার দিকে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর ইমরানের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

দশমিনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার তাহেরুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নিখোঁজ ইমরানকে খুঁজে না পেয়ে উদ্ধার অভিযান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরে রোববার সকালে নদীতে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেন স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করি। 

দশমিনা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ইমরান তার মেয়েকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর নিখোঁজ হন। রোববার সকালে মরদেহ ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। তবে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!