ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শিবালয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেফতার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ২৬ জুন ২০২৩
শিবালয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেফতার
ছবিতে স্বামী মিরাজ মোল্লা ও মোরশেদা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আগ শিমুলিয়া গ্রাম থেকে মোরশেদা আক্তার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী মিরাজ মোল্লাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।

নিহত মোরশেদা মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পৌলী গ্রামের মোকসেদ আলীর মেয়ে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে মোরশেদার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

Advertisement

নিহত গৃহবধূর বাবা মোকসেদ আলী জানান, প্রায় ৮ বছর আগে জেলার শিবালয় উপজেলার আগ শিমুলিয়া গ্রামের মোতালেব মোল্লার ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী মিরাজের সঙ্গে তার মেয়ের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার মেয়েকে এক ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ একটি ফ্রিজ ও আলমারি দেওয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই মিরাজ তার বাবা, মা ও ভাইয়ের কুপরামর্শে মোরশেদাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। তিন বছর আগে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দুই ধাপে মিরাজকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। তারপরও মিরাজ মোরশেদাকে নির্যাতন করতেন।

তিনি আরো জানান, মিরাজ ও তার পরিবারের সদস্যরা মোরশেদাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

নিহতের ছোট বোন মুক্তি জানান, তার দুলাভাই পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। পরকীয়ায় বাধা দেওয়া ও যৌতুকের কারণেই তার বোনকে নির্যাতন করা হতো। পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে একাধিক ছবি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেসেজের স্ক্রিনশট বোন তাকে পাঠিয়েছিল। দাফনের আগে গোসলের সময় তার বোনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবীর হোসেন জানান, মোরশেদার বাবা কিছুদিন আগে আমাকে তার মেয়েকে নির্যাতনের কথা জানিয়ে ছিলেন। ছেলের পরিবারের সঙ্গে এ নিয়ে বসারও কথা ছিল। তার আগেই মোরশেদাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

শিবালয় থানার ওসি নূর এর আলম জানান, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের স্বামী মিরাজকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!