ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জীবনযুদ্ধে হার মানতে নারাজ প্রতিবন্ধী শাহিন

শামীম আহমেদ, বরিশাল
প্রকাশিত: ১৫:৪৮, ২ জুলাই ২০২৩
জীবনযুদ্ধে হার মানতে নারাজ প্রতিবন্ধী শাহিন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জীবনযুদ্ধে কারও বোঝা হতে চাননি, তাই স্বপ্ন দেখেন নিজের মতো করে। এ কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধীতাকে দমিয়ে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন ৩২ বছর বয়সী শাহিন। নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও স্বপ্ন দেখতে ও তা পূরণ করতে কোনো দিন পিছপা হননি তিনি।

৫ বছর আগে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের হায়াতসার গ্রামের ফুলতলা বাজারের পূর্বপাশে গড়ে তোলেন দোকান। যে দোকানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি শিশুদের চকলেট, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী বিক্রি করেন তিনি।

পরিবারের শক্তি হয়ে ওঠা শাহিন ফকির বরিশালের মুলাদি উপজেলার চর কমিশনার এলাকার আবুল হাসেম ফকিরের ছেলে। বাবা-মা, দুই ভাই, চার বোন ও ভাবি-ভাতিজিকে নিয়ে যৌথ পরিবারে বাস করেন তিনি। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে এবং এক ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী।

Advertisement

জন্মের পর পোলিও আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা শাহিন চতুর্থ শ্রেণির পর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারেননি। তবে স্বাভাবিক মানুষদের মতো কাজকর্ম করে নিজের উপার্জনে জীবন কাটানোর লক্ষ্য ছিল শাহিনের।

শাহিনের মা আলেয়া বেগম বলেন, বয়স যখন সাতদিন তখন অনেক কান্নাকাটি শুরু করে সে। পরে তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে বরিশালে নিয়ে গিয়ে বড় মাপের চিকিৎসক দেখাতে বলেন। কিন্তু টাকার অভাবে বড় ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি তাকে।

তিনি আরো বলেন, গোসল-বাথরুমসহ নিত্যদিনের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করতে শাহিনের অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হয়। তারপরও বুঝতে শেখার পর থেকে সে নিজে নিজে সবকিছু করার চেষ্টা করে।

শাহিন বলেন, মায়ের কাছ থেকে শুনছি জন্মের সময় ভালোই ছিলাম, পোলিও আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে শারীরিক গঠন এমন হয়ে গেছে। ৩২ বছর আগের ঘটনা তখন তো গ্রামের মানুষ বুঝতেই পারতো না এটা পোলিও না অন্যকিছু। আর এ রকম হবে সেটাও কেউ বুঝতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, ২০-২৫ বছর আগে যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করি, তখন আমার কোনো হুইল চেয়ারই ছিল না, যে সেটাতে বসলে কেউ ঠেলে নিয়ে যাবে। সহপাঠীদের কোলে চরে মাসে দু-চারদিন করে স্কুলে যেতাম আর পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দিতাম। এভাবে স্কুলে যেতে যেতে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছি।

শাহিন বলেন, ২০১৮ সালে আমি যখন ব্যবসা করতে চাই, তখন আমার ভাইবোনসহ আত্মীয়-স্বজনরা মিলে ১৫ হাজার টাকা দেন। তা দিয়ে আমি বাসায় বসে ব্যবসা শুরু করি, তবে তাতে না পোষালে এই দোকানটি নেই। বর্তমানে এ দোকান থেকে দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা আয় হচ্ছে। আর দোকান থেকে আয়ের টাকা নিজেই ব্যয় করছি, ইচ্ছে আছে ব্যবসা বাড়ানোর বড় দোকান দেওয়ার।

এদিকে স্থানীয়রা বলছে, পরোপকারী হিসেবে স্থানীয়দের কাছে শাহিনের পরিচিতি রয়েছে। উপার্জন কম হলেও প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাও করেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: বরিশাল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!