রোববার রাত দুইটার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ঝগড়ারচর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, ফয়েজ তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
জানা যায়, ২৩ বছর আগে উপজেলার টানকৃঞ্চ গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে সেলিনা বেগমের সঙ্গে কালিকাপ্রসাদ এলাকার মৃত মুসলিম মিয়ার ছেলে ফয়েজ উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে সেলিনার নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। রোববার রাত ১টার দিকে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ফয়েজ ঘরে থাকা হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেলিনার মৃত্যু হয়।
.png)
সেলিনা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছেন নিহতের ভাই নাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমার বোনের সঙ্গে তার স্বামীর প্রায়ই নানা বিষয়ে নিয়ে ঝগড়া হতো। ফয়েজ আমার বোনের কাছ থেকে প্রায়ই যৌতুকের টাকা দাবি করতেন। এসব নিয়ে আগেও কয়েকবার ঝগড়ায় বোনের মাথা ফাটিয়ে দেন। রোববার রাতেও যৌতুকের টাকা চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্য বাগবিতণ্ডা হয়। তার জেরেই হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে আমার বোনকে মেরে ফেলেছেন।
নিহত সেলিনার ছেলে ১৭ বছরের জীবন আহমেদ বলেন, আমি ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কাজ করি। রাতে বাবা আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তোর মা মারা গেছে। এই খবর পেয়ে আজ ভোরে ঢাকা থেকে ভৈরবে এসে মাকে মৃত দেখতে পাই। আমার বাবা প্রায়ই মাকে নির্যাতন করতেন। আমাকে লেখাপড়া না করিয়ে ঢাকায় জুতার কারখানায় কাজে পাঠিয়ে দেন। কিছুদিন আগেও মাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।