বুধবার বিকেল ৩টার দিকে এ রায় দেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আব্দুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত ফাতেমা খাতুন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বড়চালা গ্রামের মনির উদ্দিনের মেয়ে। মিথিলা ময়েজ একই গ্রামের দুবাই প্রবাসী ময়েজ উদ্দিনের মেয়ে।
.png)
গাজীপুর আদালতের অতিরিক্ত পিপি আতাউর রহমান বলেন, ২০০৭ সালে ১৬ জুলাই রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে রাওনাট গ্রামের সরকার বাড়ির পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করে পালিয়ে যান ময়েজ উদ্দিনের চাচাতো বোন ফাতেমা খাতুন। পরদিন লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় নিহতের মা নেলী বেগম বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন।
তিনি আরো জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একমাত্র আসামিকে অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দেন। ঘটনার পর থেকে মামলার একমাত্র আসামি ফাতেমা খাতুন পলাতক রয়েছেন।
পারিবারিক কলহ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দিন ময়েজ উদ্দিনের স্ত্রী কেনাকাটার জন্য স্থানীয় রাণীগঞ্জ বাজারে যান। যাওয়ার সময় তিনি মিথিলাকে ভাগনি শান্তার কাছে রেখে যান। বিকেলে নেলী বেগমের বাড়িতে আসেন তার চাচাতো ননদ ফাতেমা খাতুন।
পিপি আতাউর রহমান জানান, পরে শান্তা ও মিথিলাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের কাপাসিয়া বাজারে যান ফাতেমা। বাজারের কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় শান্তার কোলে ছিল মিথিলা। পথে রাওনাট গ্রামের সরকার বাড়ি পুকুরের কাছে এসে দুজনকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেয়। শান্তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাদের পানি থেকে ওঠান। পরে রাতে ওই দুই শিশুকে নিয়ে ফাতেমা তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় নয়ন মিয়ার বাড়িতে রাত্রিযাপন করে। রাতের কোনো একসময় মিথিলাকে ঘুম থেকে তুলে রাওনাট গ্রামের সরকার বাড়ির পুকুরে ফেলে হত্যা করে পালিয়ে যান ফাতেমা। দীর্ঘ শুনানি ও ৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার এ রায় দেন আদালত।