শাহিন মিয়া উপজেলার পুমদী ইউপির বিলচাতল গ্রামের দরিদ্র অটোরিকশা চালক মো. ছমির উদ্দিনের ছেলে। হঠাৎ কর্মক্ষম ছেলের মৃত্যুতে তার পরিবারের সবকিছুই যেন উলট-পালট হয়ে গেছে।
সরেজমিন রোববার সকালে উপজেলার বিলচাতল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত শাহীনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাবা মো. ছমির উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই শাহীনের এ অকাল মুত্যুর খবরকে মেনে নিতে পারছেন না। ছেলের কথা মনে করে করেই নিহত শাহীনের মা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।
.png)
এ সময় নিহত শাহীনের শোকাহত বাবা হতদরিদ্র অটোরিকশা চালক মো. ছমির উদ্দিন জানান, বছর খানেক আগে নিজের শেষ সম্বল ভিটেমাটি বিক্রির টাকা ও তার কয়েক বছরের অটো চালানোর সঞ্চিত মোট পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে স্থানীয় এক প্রতিবেশির মাধ্যমে সৌদিআরবে পাঠানো হয়েছিল শাহীনকে। সেখানে সে নিজের খরচাদি মিটিয়েও প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা বাড়িতে সংসারের খরচের জন্য গত ৯ মাস ধরে প্রেরণ করে আসছিলো। এতে ভালোভাবেই চলেছিল তাদের সুখের সংসার। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তার সবকিছুই যেন শেষ হয়ে গেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহীনের লাশ দ্রুত দেশে নিয়ে আসার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, শাহীন সৌদি আরবের আল-এমামা নামক একটি কোম্পানিতে বলদিয়া ভিসায় কাজ করতেন। সেখানে ডাম্পার গাড়িতে কাজ করে বাসায় ফেরার পথে ঐ কোম্পানিরই আরেকটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গত ৮ আগস্ট শাহীনের মৃত্যু হয়।