কোনো ধরনের ব্যাংকিং ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার সুবিধা ছাড়াই ২০০ বছর ধরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে পেয়ারাচাষি ও পাইকারদের মধ্যে। যার ফলে দিনদিন ভাসমান পেয়ারা বাজারের সুনাম ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে দেশ হতে দেশান্তরে।
দেশি-বিদেশি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা পেয়ারা রাজ্য ও ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমণ করে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করেন। শুধু কর্মকর্তাই নন দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও পেয়ারা রাজ্য ও ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমণ করে মনের খোরাকি লাভ করেন।
.png)
পদ্মাসেতুর কারণে বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যা, ভাগ্যের চাকাও ঘুরেছে পেয়ারাচাষি, পাইকার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও। ঐ অঞ্চলের ৫৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের কাছে পেয়ারা নিয়ে আসে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য, জীবিকার অবলম্বন। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসের ভরা বর্ষায় এসব এলাকার নদী-খালজুড়ে শুধু কাঁচা-পাকা পেয়ারার সমারোহ।
আষাঢ়-শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্রের সময় দূর-দূরান্তের বেপারিদের আনাগোনায় পেয়ারা মোকামগুলোতে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পেয়ারা বাগান সেই সঙ্গে এ ফলের স্বাদ নিতে বহু পর্যটকের এসব নদীপথে দেখা মেলে। পাকা পেয়ারার মৌ মৌ গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছোট ছোট নৌকায় পেয়ারাচাষি, ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা পাইকারের ট্রলার, মালবাহী নৌকায় তুলে দেন। কোথাও ঝুড়ি ভরে বাছাই করা পেয়ারা ট্রাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে পেয়ারা এখানে মৌসুমি ফল, কৃষিজাত পণ্য শুধু নয়, প্রধান ব্যবসার অবলম্বন। পেয়ারার মৌসুম ঘিরে তাই ‘নাইওর’ আসে কন্যারা। পেয়ারা সবার কাছে নিয়ে আসে বাৎসরিক উৎসব।
বরিশাল বিভাগের অন্যত্র ছিটে ফোঁটা পেয়ারা হলেও বরিশালের বানারীপাড়া, ঝালকাঠি সদর ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ঘিরেই মূলত পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষ। বরিশালের বানারীপাড়ার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর, ঝালকাঠির ১৩ গ্রামে ৩৫০হেক্টর জমিতে, স্বরূপকাঠির ২৬ গ্রামের ৬৪৫হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়।
পর্যটক ব্যবসায়ী নিশিথ হালদার শানু ও গৌতম মিস্ত্রি জানান, পেয়ারা মৌসুমকে ঘিরে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক আসেন। আগে শুধুমাত্র নৌপথে আসতো, এখন পদ্মাসেতু উদ্বোধন হওয়ার পরে সড়ক পথ ভালো হওয়ায় অল্পসময়ের মধ্যেই যাতায়াত সম্ভব বলে পর্যটকদের সংখ্যা গতবছর থেকে বেড়েছে।
পেয়ারাচাষি ভবেন হালদার জানান, এখন পেয়ারা গাছে যে পরিমাণ ফল হয়েছে তাতে দাম ভালো পাচ্ছি। এতে আমি আর্থিকভাবে অনেকটা স্বচ্ছল হয়েছি।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ হয়। পেয়ারা মৌসুমে এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে পেয়ারা অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ ও জীবিকার অবলম্বন। পদ্মাসেতুর কারণে সড়ক পথে দিনের মধ্যেই পেয়ারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে। ফলন কম হলেও চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন।