ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সহ-সাধারণ সম্পাদক ও এভারগ্রিন ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী মাঝহারুল ইসলাম কচি বলেন, ‘প্রথমদিনই নয়টি জাহাজ সুন্দরবন গেছে। এরমধ্যে সাতটি খুলনার, একটি মোংলার ও একটি ঢাকার। খুলনার সাতটি জাহাজ জেলখানা ঘাট এলাকা থেকে সকাল ৭টা থেকে ছাড়া শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে সবশেষ জাহাজটি মোংলা থেকে ছেড়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই এখন হিরনপয়েন্ট ও দুবলার চর যাওয়ার সুযোগ নেই। ১ নভেম্বর থেকে সেসব জায়গায় যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে। এখন করমজল, হারবারিয়া, কটকা, কচিখালী ও ডিমেরচর রুটে যাতায়াত করবে জাহাজগুলো।
.png)
পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ওসি হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, শুক্রবার থেকে সুন্দরবনে জেলে ও পর্যটকদের জন্য পারমিট দেওয়া শুরু হয়। এজন্য নির্ধারিত স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলে ও পর্যটকরা এদিন সকাল থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করছেন। পর্যটকরা বনে যাওয়ার সময় প্লাস্টিকের বোতল, একবার ব্যবহার হয় এমন প্লাস্টিকের খাবার প্লেট, সফট ড্রিংকসের বোতল ও ক্যান নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কঠোর অবস্থানে সুন্দরবন বন বিভাগ। তারপরও যদি কেউ প্লাস্টিকের এসব সামগ্রী বনের মধ্যে নিয়ে যান তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি জরিমানাও করা হবে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে বর্তমানে ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দুই লাখ হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, সুন্দরীসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড ও ৩০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ১৮৭৪ বর্গ কিলোমিটার জলভাগে কুমির, ৬ প্রজাতির ডলফিনসহ ২৯১ প্রজাতির মাছ রয়েছে।
৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটারের সুন্দরবনের বুকচিরে রয়েছে ৪০০ নদীনালা এবং ২০০ খাল। বাঘ, হরিণ, শূকরসহ ২৮৯ প্রজাতির স্থল ও জলজ প্রাণী বাস করে এখানে। আছে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী।