রাজবাড়ী কালুখালী উপজেলার পাতুরিয়া গ্রামের ফজলু মন্ডলের পাট ক্ষেত থেকে এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয় গত ১৭ জুলাই। তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের পর সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। রোববার দুপুর ১২ টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই নারী বিবাহিত ছিলেন। বিয়ের তিন বছর পর স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ভুক্তভোগী তার সন্তানসহ বাবার বাড়িতে থাকতেন। ফেসবুকে মাহফুজ মন্ডল নামে একজনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন ওই নারী। মাত্র দুই দিনের পরিচয়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।
.png)
পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ জুলাই রাত তিনটার দিকে ওই নারীকে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর মাহফুজের সঙ্গে তার দেখা হয়। কিন্তু মাহফুজ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে বিস্মিত হয়। তখন আরেক আসামি রবিউল এসে বলে তার সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে কথা হতো। একে একে ৬ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তখন রবিউল বলে তারা সবাই তার বন্ধু। তাদের বিয়েতে সহযোগিতা করার জন্য তারা এখানে এসেছে। এক পর্যায়ে সবাই মিলে পাট ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই নারী সবকিছু পুলিশকে বলে দেওয়ার কথা বললে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন পান্নু মন্ডলের ছেলে মাহফুজ মন্ডল (২১), দুলাল খানের ছেলে রবিউল খান (২১), রমজান মন্ডলের ছেলে হাকিম মন্ডল (২০) ও নজরুল ইসলামের ছেলে হাসিব খান (২০)। এদের মধ্যে হাসিব খানের বাড়ি পাংশা উপজেলার আশুরহাটে। বাকি সবাই কালুখালী উপজেলার বিকয়া গ্রামের বাসিন্দা। আসামিরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা (পাংশা ) সার্কেল ) কালুখালী থানার ওসি প্রানবন্ধু মিত্রসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।