বুধবার নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার মহিষবেড় এলাকার সিধলং বিল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবুল মিয়া জেলার তারাকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের মৃত হাসেন আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তারাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল খায়ের।
.png)
নিহত বাবুল মিয়া তারাকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের মৃত হাসেন আলীর ছেলে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নেত্রকোণার পূর্বধলার মহিষবেড় গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান মিয়া ও তার স্ত্রী সখিনা বেগম ।
জানা যায়, বাবুল গত ২৪ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন বাবুল। নিখোঁজের পর আশপাশের অনেক এলাকা ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেশ কয়েকদিন খোঁজাখুজি করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তার কোনো সন্ধ্যান মেলেনি। পরে কোথাও খোঁজে না পেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাবুলের ছেলে সোহেল বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের তুরাগ এলাকা থেকে শাহজাহান ও তার স্ত্রী সখিনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সেখান থেকে তারাকান্দা থানায় এনে শাহজাহান ও সখিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাবুলকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেন। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বিল থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
ওসি আবুল খায়ের জানান, বাবুল গ্রেফতারকৃত সখিনার ফুফাতো ভাই। সখিনার সঙ্গে বাবুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্পর্কের বিষয়টি সখিনার স্বামী শাহজাহান টের পেয়ে বাবুল ও সখিনাকে সতর্ক করে দেন। পরে বাবুল বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এরপরও সখিনাকে বিরক্ত করতেন বাবুল। এ অবস্থায় কোনো উপায় না পেয়ে বাবুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে সখিনা ও তার স্বামী। পরে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৪ আগস্ট মোবাইলে বাবুলকে ডেকে সিধলং বিলের কাছে ডেকে নিয়ে যান সখিনা। এ সময় বাবুল সেখানে যেতেই স্বামী-স্ত্রী মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার জন্য পাটের বস্তায় ভরে বিলের মাঝখানে পুঁতে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় নিহত বাবুলের ছেলে সোহেল মিয়া বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।