ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ‘ঘনিষ্ট সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় খুন হন সাকিব 

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৪৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ‘ঘনিষ্ট সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় খুন হন সাকিব 
গ্রেফতারকৃত মফিজুল ইসলাম

পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ‘ঘনিষ্ট সম্পর্ক’দেখে ফেলেন সাকিব হোসেন। ঘটনাটি সমাজে জানাজানি এবং প্রেমিকার সংসার ভেঙে যাবে এ আশঙ্কায় সাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এরপর লেবুর শরবতের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সাকিবকে খাওয়ান তারা। এতে সাকিব ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লে মধ্যরাতে প্রেমিক মফিজুল ও প্রেমিকা সুফিয়া তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সাকিবের মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেন তারা। এরপর আত্মগোপনে চলে যান মফিজুল। 

শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মফিজুল। পরে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গ্রেফতারকৃত মফিজুল ইসলাম সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার উপজেলার কলাউড়া গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আজমপুর রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, গত সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার টয়লেটের ট্যাংকি থেকে সাকিব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাকিবের বাবা মো. আনোয়ার হোসেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিবেশী ইব্রাহীমের ঘরের ভাড়াটিয়া মফিজুল ইসলামকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আজমপুর রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। শুক্রবার বিকেলে সাকিব হোসেন হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মফিজুল।

জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, সাতবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের সুফিয়া বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সাকিব তাদের ঘনিষ্ট সম্পর্ক দেখে ফেলায় সমাজে জানাজানি হয়ে যাবে এবং সুফিয়া বেগমের সংসার ভেঙে যাবে এ আশঙ্কায় এই হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।

তিনি আরো জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথমে লেবুর শরবতের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সাকিবকে খাওয়ান আসামি মফিজুল। এতে সাকিব গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে যান। মধ্যরাতে মফিজুল ও সুফিয়া তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে সাকিবকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সাকিবের মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেন তারা। এরপর আত্মগোপনে চলে যান মফিজুল। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে  আসামি মফিজুলকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!