ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি চাষে সফল শাহজাহান

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৬:১১, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি চাষে সফল শাহজাহান
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চারদিকে বাঁশের খুঁটি, নাইলন সুতা আর জিআই তার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মাচা। মাচায় ঝুলে আছে চিচিঙ্গা। সঙ্গে রয়েছে পুঁইশাক। একই জমিতে চাষ হচ্ছে ঢেঁড়শ, লাউ, পাটশাক, ডাটাশাক, বেগুনসহ নানা প্রকার  শাক সবজি।

এমন দৃশ্য চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের খালাজোড়া এলাকায় কৃষক মো. শাহজাহান মিয়ার জমিতে। তিনি সকাল বিকেল করছেন সবজির পরিচর্যা। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করছেন। এ মৌসুমে ধান চাষের অনুপযোগী জমিতে চিচিঙ্গাসহ অন্যান্য সবজি চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কম খরচে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় বাড়ি সংলগ্ন জায়গায় বছরজুড়ে কীটনাশকবিহীন সবজি চাষ করে তিনি এ সফলতা পান। স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় শাক-সবজি চাষে ভালো দাম পেয়ে শাহজাহান মিয়া খুবই খুশি। তার পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মৌসুম অনুযায়ী তিনি নানা প্রকার শাক সবজি আবাদ করছেন। যাবতীয় খরচ বাদে তার বছরে প্রায় চার লাখ টাকার উপর আয় হয়। আর এই আয় দিয়ে চলছে তার সংসার।

Advertisement

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটি, নাইলন সুতা আর জিআই তারে তৈরি করা মাচায় ঝুলে আছে ছোটবড় চিচিঙ্গা। মাচায় চারদিকে ছড়িয়ে আছে পুঁইশাক। একইসঙ্গে জমিতে আছে পাটশাক, ডাটাশাক, ঢেঁড়শ আর বেগুন। বিভিন্ন শাক-সবজি নিয়ে শাহজাহান মিয়া এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শাহজাহান জানান, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তিনি খালাজোড়া এলাকায় প্রায় ১৪ বছর ধরে বসবাস করছেন। এক সময় তিনি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করতেন। প্রতি মৌসুমে ধান চাষে ফলন ভালো না হওয়ায় তার লোকসান গুনতে হতো। এরপর কৃষি অফিসের পরামর্শে স্বল্প জমিতে প্রথমে লালশাক, ডাটাশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক ও পাটশাক দিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। সবজির ফলন ভালো হওয়ায় এখন সারাবছরই  মৌসুম অনুযায়ী কোনো কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন।

বর্তমানে তিনি পুঁইশাক, পাটশাক, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়শ আর বেগুন বিক্রি করছেন। প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে দুই হাজার টাকার উপর সবজি বিক্রি করছেন। বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুবই খুশি। এসব শাক-সবজি উৎপাদন করে নিজ পারিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে প্রতি মাসে খরচ বাদে ৩৫ হাজার টাকার উপর তার আয় হয়। তার এই সফলতা দেখে এলাকায় অনেকেই সবজি আবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পাশাপাশি কীটনাশক মুক্ত সবজি খেয়ে তিনি শারীরিক ভাবেও সুস্থ আছেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষক শাহজাহান বলেন, পুষ্টিমানের দিক থেকে সবজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফসল। কীটনাশকবিহীন আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে সবজি আবাদ করায় নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটানোর কারণে তাদের কোনো প্রকার রোগ বালাই হয়নি। সবজি চাষে যাবতীয় খরচ বাদে বছরে প্রায় চার লাখ টাকার উপর আয় হয়।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, শাহজাহান একজন আদর্শ কৃষক। তিনি বারমাসই নানা প্রকার শাক সবজি আবাদ ও বিক্রি করে আসছেন। শাক-সবজি আবাদে সরকারি যত সহায়তা রয়েছে তাকে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় কৃষকদেরকে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। সবজি চাষ কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরনরে সবজি চাষ করছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: আখাউড়া চাষ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!