ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সুতানাল দীঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

এম. সুরুজ্জামান, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) 
প্রকাশিত: ১৫:৪৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
সুতানাল দীঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাঁকরকান্দি ইউনিয়নের মধ্যমকুড়া গ্রামের ঐতিহাসিক সুতানাল দীঘিতে দুই দিনব্যাপী বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলার শৌখিন মৎস শিকারিদের অংশগ্রহণে এক বিশাল মিলন মেলায় পরিণত হয় সুতানাল দীঘি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার প্রতিটি টিকিটের মূল্য ছিল ২০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে ৬৭টি টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। 

জানা যায়, ঐতিহাসিক এই সুতানাল দীঘিতে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে টিকিটের মাধ্যমে মাছ শিকার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ৮-১০ ফুট গভীরতার ৬০ একর জমির বিশাল এই দীঘির ১৯ একর ৭৪ শতাংশ পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। দীঘিরপাড়ের বাসিন্দা ১১৮টি পরিবারের সদস্য নিয়ে গঠন করা হয়েছে সুতানাল দীঘি পরিচালনা কমিটি। বিশাল বড় এই পুকুরের মাছ খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় মাছ শিকারের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলার শৌখিন মৎস শিকারিরা মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে ছুটে আসেন এখানে।

Advertisement

তাবু টাঙিয়ে রাতদিন মাছ শিকার করেন তারা। আর মাছ শিকার দেখতে ছুটে আসেন হাজার হাজার উৎসুক মানুষ। এ সময় বেশি মানুষের আগমনে এখানে গড়ে উঠে অস্থায়ী চা-পানের দোকানপাট। হাজার হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে এসব দোকানগুলোতে। গত দুই বছরের চেয়ে এবার মৎস শিকারি অংশগ্রহণ বেশি।

স্থানীয়রা জানান, ১৩৫১ সালে সামন্ত রাজার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তার স্ত্রী কমলা রাণী বা রাণী বিহরীনির নামে এই বিশাল দীঘিটি খনন করা হয়। তবে এই দীঘি খননের সঠিক কোনো ইতিহাস আজো জানা যায়নি। 

সুতানাল দীঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

সুতানাল দীঘি পরিচালনা সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, এই দীঘিতে দেশীয় প্রজাতির রুই, কাতল, মৃগেল, ব্রিকেট, সিলভার কার্প ও কার্পিও মাছসহ নানা জাতের মাছ সমিতির মাধ্যমে চাষ করা হয়। এখানে এক কেজি থেকে শুরু করে ১৫-২০ কেজি ওজনের মাছ রয়েছে। টিকিটের মাধ্যমে শুধুমাত্র বড়শি দিয়ে এ মাছ শিকার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মাছ চাষের বিক্রিত লভ্যাংশের টাকা সমিতির সদস্যদের মাঝে সমহারে বন্টন করা হয়। মাছ শিকার উৎসবের সময় দীঘির চারপাশে মাচাং তৈরি করা হয়। প্রতি মাচাং এর জন্য ২০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। 

টাঙ্গাইলের মৎস শিকারি আবদুল আজিজ বলেন, আমরা পাঁচজন মিলে প্রতিবছর এই দীঘির মাছ শিকার করতে আসি। এবারো ২০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছি। এরমধ্যে মাঝারি আকারের কিছু মাছ শিকার করেছি। টিকিট ক্রয়ের ২০ হাজার টাকার মাছ শিকার করতে পারবেন কি না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, টাকা নয়, মাছ শিকার করা হলো আমাদের নেশা। তাই অনেকটা শখ করেই আমরা মাছ শিকার করতে আসি।

কাকরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউসার বলেন, দূর-দূরান্তের মৎস শিকারিদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর সুতানাল দীঘি এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। এছাড়া জেলার ঐতিহাসিক স্থান হওয়ায় বছরের প্রায় প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ কিংবা পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে শিকারিরা মাছ শিকার করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!