দৌলতখান উপজেলার দিদাউল্যাহ গ্রামের পারভীন আক্তার তার ৩ সন্তানকে নিয়ে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটার দিকে তার শরীরে দাহ্যজাতীয় পদার্থের যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় দেখেন ঘাড় ও বুকের একাংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। তার ডাক-চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে রাতেই তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ সময় পারভীনের ৩ বছরের শিশু ফাহাদের পিঠের ২টি স্থানে দাহ্যজাতীয় পদার্থের দাগ পড়ে। তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে তার শ্বশুর ও ননদ এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পারভীনের স্বামী আবুল কালাম চট্টগ্রামে কাজ করেন।
.png)
তিনি আরো বলেন, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে স্বামী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরের ঘরেই আলাদা থাকেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। গতকাল রাতেও মোবাইলের চার্জার রাখা নিয়ে ঝামেলা হয়, তখন ননদ ফরিদা ও শ্বশুর আব্দুল খালেকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তখন শ্বশুর আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এরপর রাতে আমি ও আমার ছেলে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত আড়াইটার দিকে ঘুমের মধ্য আমার গায়ে পানি জাতীয় কিছু গায়ে পড়ে এবং শরীর জ্বালাপোড়া শুরু হয়।
গৃহবধূ পারভীনের মেয়ে বলেন, অনেক আগে থেকে আমার মায়ের সঙ্গে দাদা-দাদি ও ফুফুদের ঝগড়া চলছে। গতকাল রাতেও মোবাইলের চার্জার নিয়ে ঝামেলা হয়। পরে রাতের আঁধারে কে বা করা মা ও ভাইয়ের ওপর এসিড মেরে পালিয়ে যায়। আমরা দেখতে পারিনি।
এদিকে, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তায়েবুর রহমান জানান, গতকাল রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে দৌলতখান উপজেলা থেকে এসিডে ঝলসে যাওয়া এক নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং তারা ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
দৌলতখান থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত এরশাদুল হক ভূইয়া জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। এসিডে ঝলসে যাওয়া গৃহবধূ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গৃহবধূর পক্ষে মামলা চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।